বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস উপলক্ষে সোমবার সন্ধ্যায় মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিল শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্টজনের উপস্থিতিতে উদযাপিত হয় ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদশেকে ভারতের স্বীকৃতি দেওয়ার ৫০ বছর পূর্তির ঐতিহাসিক দিনটি।

দিবসটি উপলক্ষে ঢাকায় পৃথক অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজন বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব কখনও ছিন্ন হবে না। এদিন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি 'বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীর ৫০ বছর' শীর্ষক আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা আয়োজন করে। এছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাবে 'স্বাধীনতার ৫০ বছর' শীর্ষক আলোচনা সভা করে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, সালমান এফ রহমান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন প্রমুখ।

শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী এবং বন্ধু। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিল তা বাংলাদেশের মানুষ সব সময় কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীর ৫০ বছর পূর্তির দিনটি তাই বিশ্বের ১৮টি দেশে উদযাপিত হচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে বলে তিনি আশা করেন।

বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ভারত সব সময় প্রতিবেশীদের মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম হিসেবে দেখে এবং সব সময়ই অগ্রাধিকার দেয়। কভিড-১৯ মহামারির সময়েও দুই দেশের সহযোগিতার সম্পর্ক অটুট ছিল। বাংলাদেশ-ভারত প্রতিবেশীর সম্পর্কে বিশ্বের সামনে অনন্য দৃষ্টান্ত।

অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের পদ্মভূষণ ও পদ্মশ্রী পদকে ভূষিত চার বাংলাদেশি নাগরিকের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। পদ্মভূষণপ্রাপ্ত প্রয়াত কূটনীতিক সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর পক্ষে পদক গ্রহণ করেন তার স্ত্রী তোহফা জামান আলী। পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত জাতীয় জাদুঘরের ড. এনামুল হক এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক কাজী সাজ্জাদ আলী জহির সশরীরে উপস্থিত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ড. সন্‌জীদা খাতুন উপস্থিত থাকতে পারেননি। আয়োজনে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপহার দেয় গানবাংলার তাপস ও তার দল।

সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ১৯৭১ সালে ৬ ডিসেম্বরের আগেই আমরা জানতে পেরেছিলাম ভুটান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ভুটান ভারতের নির্দেশনায় বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। ভারত যখন স্বীকৃতি দেয় তখন এটি একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। তিনি আরও বলেন, সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি মডেল। বন্ধুভাবাপন্ন এসব দেশে চলাচল উন্মুক্ত করতে হবে, যেন কোনো ভিসা না থাকে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে এগিয়ে নিতে হবে দুই দেশের সম্পর্ক।

সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের কার্যকরী সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আরোমা দত্ত, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ড. সারওয়ার আলী, বাংলাদেশে ভুটানের রাষ্ট্রদূত রিনচেন কুয়েন্টশিল, সাবেক রাষ্ট্রদূত মহিউদ্দিন আহমেদ, ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব খলিলুর রহমান, সংগঠনের মহাসচিব হারুন হাবীব প্রমুখ।

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভার্চুয়াল সভায় বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, মৈত্রী দিবস ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জনগণের বন্ধুত্বেরও স্বীকৃতি। অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ১৭ হাজার সদস্য শহীদ হয়েছেন। অন্য কোনো দেশকে স্বাধীন করার জন্য এ ধরনের আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলনের সভাপতি বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত ভারতের সাংবাদিক মানস ঘোষ, আকাশবাণী কলকাতার সাবেক প্রযোজক কবি পঙ্কজ সাহা ও ব্রিটিশ মানবাধিকার নেতা জুলিয়ান ফ্রান্সিস, মানবাধিকার নেত্রী আরোমা দত্ত এমপি, ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব এবং ভারতের সাংবাদিক তাপস দাস।





মন্তব্য করুন