চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা স্থায়ীভাবে বাড়ানো, নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি বন্ধসহ চার দফা দাবিতে চাকরিপ্রত্যাশীদের ডাকা অবরোধ কর্মসূচিতে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। রোববার রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় ও মিরপুরে কর্মসূচি চলার সময় এ ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম সর্বদলীয় চাকরিপ্রত্যাশী ঐক্য পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক ওমর ফারুক সমকালকে বলেন, সাড়ে ১২টার দিকে নীলক্ষেতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে তিনিসহ তাসলিমা লিমা, রেজওয়ানা এবং মোশাররফ নামে চারজন আহত হন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, মিরপুরেও আন্দোলন চলাকালে তাদের ছয়জনের মতো আহত হয়েছেন। এ ছাড়া  সেখানে মানিক হোসেন রিপনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে মিরপুর-২ মডেল থানায় রাখা হয়েছে। তাদের ছাড়িয়ে আনতে গেলে আরও ১২ জনকে পুলিশ আটক করে।

লাঠিচার্জ বিষয়ে নিউমার্কেট থানার ওসি স ম কাইয়ুম বলেন, আমরা তাদের দাবিগুলো শুনেছিলাম। তাদের বলেছিলাম, বর্তমানে করোনা মহামারি মোকাবিলায় ১১টি বিধিনিষেধ চলছে, যাতে এ রকম সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ। তাই তাদের বলেছি, তোমরা চলে যাও। তারা আমাদের কাছে সময়ও চেয়েছিল। আমরা তাদের প্রায় ৪৫ মিনিট সময় দিয়েছি। এরপরও তাদের উঠে যাওয়ার জন্য ১০ মিনিট সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা ওঠেনি। এর পরই আমরা জনদুর্ভোগ কমাতে তাদের সরিয়ে দিয়েছি।

গ্রেপ্তার বা আটক বিষয়ে তিনি দাবি করেন, কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি। আমরা শুধু যান চলাচল স্বাভাবিক করতে তাদের সরিয়ে দিয়েছি।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিলে পুলিশ সেখান থেকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়। এর পর তারা নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করেন। একই সময় তারা মিরপুর-১০ নম্বর গোলচক্কর অবরোধ করে আন্দোলন করেন।

আন্দোলনকারীদের অন্যান্য দাবি- চাকরিতে আবেদনের ফি সর্বোচ্চ ১০০ টাকা এবং একই সময়ে একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করে সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা।