ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের ব্রিফিং করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও এলজিআরডিমন্ত্রী। এ সময় আগামী জাতীয় নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন গঠন পদ্ধতি, মানবাধিকার সুরক্ষা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কথা বলেন তারা।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার মানবাধিকার সুরক্ষা, সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ নির্মূলকে প্রাধান্য দেয়। ভবিষ্যতে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানেও সরকার বদ্ধপরিকর। এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার আগামীতে একটি ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে চায়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে কূটনীতিকদের তিনি জানান, এ আইনটির অপপ্রয়োগ সরকার চায় না।

পরে ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, আমরা আমাদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা সমুন্নত রাখায় অঙ্গীকারবদ্ধ। আর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার বন্ধে সরকার সচেতন রয়েছে বলে জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। রোববার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও সৌদি আরবের কোনো প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আগেই উপস্থিত না হওয়ার বিষয়ে জানিয়েছিলেন। সৌদি রাষ্ট্রদূত ছুটিতে ছিলেন। তবে চীনের রাষ্ট্রদূত কিংবা চীনা দূতাবাসের অন্য কোনো কূটনীতিক কেন থাকেননি, সে বিষয়টি জানা যায়নি।

সূত্র আরও জানায়, আইনমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসনের বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, আইনের বাইরে গিয়ে সরকারের পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়। আইনের মধ্যে থেকে সরকার সর্বোচ্চ উদারপন্থা গ্রহণ করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে খ্রিষ্টীয় নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্যই এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন দেশের ৪০ জন কূটনীতিক এতে উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী কূটনীতিকদের বলেন, গত বছর ছিল বাংলাদেশের জন্য অনন্য গৌরব ও আশার বছর। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর যুগল উদযাপনের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বছর ছিল ২০২১। তিনি দারিদ্র্য বিমোচন, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ডিজিটালাইজেশন ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চমকপ্রদ সাফল্যের বিবরণ তুলে ধরেন।

অবাধ পরিবেশে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকারে এই প্রথম তৃতীয় লিঙ্গ থেকে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার বক্তব্যে নির্বাচন কমিশন গঠনের পদ্ধতি এবং এ কমিশন গঠনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির বর্তমান সংলাপের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার রোধে সরকার সচেতন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ আইনের সর্বোত্তম অনুশীলন নিশ্চিত করতে সরকার জাতিসংঘের সংশ্নিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গেও কাজ করছে।

এলজিআরডিমন্ত্রী তাজুল ইসলাম স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন তিনি। ইউপি চেয়ারম্যান পদে বিপুলসংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার প্রসঙ্গ সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের নির্বাচনেও প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার নজির রয়েছে।

মন্তব্য করুন