ভাঙন আতঙ্কে উত্তরের নদী তীরবর্তী মানুষ

প্রকাশ: ১০ জুন ২০১৪

আমিনুল হক, উত্তরাঞ্চল

ভাঙন আতঙ্কে উত্তরের নদী তীরবর্তী মানুষ

নীলফামারী :তিস্তা ব্যারেজ এলাকা সমকাল

দেড় মাসের ব্যবধানে উত্তরের জেলাগুলোর নদ-নদীর চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে। সব নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। অথচ কিছুদিন আগে পানির অভাবে সেচ সংকটে পড়েছিলেন কৃষক; বেকার হয়ে পড়েছিলেন মাঝি-মাল্লারা। আর এখন পানি বাড়ায় বন্যা ও ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে। এই চিত্র রংপুর বিভাগের চার জেলার নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে। গত এপ্রিলে ৫০০ কিউসেক পানিও মিলছিল না তিস্তায়, সেখানে এখন থইথই পানি। তিস্তার পানি গত সপ্তাহে বিপৎসীমার মাত্র ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বইছিল। সোমবার বইছিল ৬৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ জনপ্রতিনিধিরা বলেছেন, খরা ও বন্যা_ এই উভয় সংকট থেকে বাঁচতে হলে তিস্তা চুক্তি একমাত্র সমাধান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, বৃষ্টির পানির পাশাপাশি তিস্তা ব্যারাজের উজানে ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের পানি ছেড়ে দেওয়ায় তিস্তায় পানি বেড়েছে। এতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা অববাহিকায় পাঁচ ইউনিয়নের চরগ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তিস্তা ব্যারাজের উজানে পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়শিঙ্গের চরে গত বছর স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত একটি ক্রস বাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারাজের সব ক'টি (৪৪টি) স্লুইসগেটই খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে পানি দ্রুত নামছে। কৃষি বিভাগের সূত্রমতে, গত চার দিনে ডালিয়াসহ ডিমলা উপজেলায় বৃষ্টি হয়েছে প্রায় ২০০ মিলিমিটার।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব সাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ খান বলেন, হঠাৎ করে তিস্তায় পানি বেড়ে গিয়ে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তার মতে, ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানি নিয়ে সমঝোতা করতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন কর্মকর্তা বলেন, অভিন্ন নদীর পানি নিয়ে চুক্তি করা ছাড়া দেশে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করাসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ হবে না।
এদিকে, গাইবান্ধার পাঁচটি নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এখন অনেকটাই বেহাল। বাঁধের অনেক জায়গায় মাটি ধসে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। কোনো কোনো বাঁধের মাটি কেটে বাঁধে আশ্রিত পরিবারগুলো তৈরি করেছে ঘরবাড়ি। সংস্কার না করায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে কোনো না কোনো বাঁধ ভেঙে সংলগ্ন এলাকা ও আবাদি জমি প্লাবিত হচ্ছে। এবার ওই সব বাঁধের ১৬টি পয়েন্টের প্রায় ৫০ কিলোমিটার অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করা হবে।
থানাপাড়া এলাকার শিক্ষক আবু তাহের বলেন, বাঁধ মেরামত ও ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কখনোই স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
তবে গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আউয়াল মিয়া কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বরাদ্দ পাওয়া গেলে ঝুঁকিপূর্ণ অংশে মেরামতকাজ করা হবে।
এদিকে, কুড়িগ্রাম সদর থেকে ৩১ কিলোমিটার দূরে চিলাহাটি রমনাঘাট ভাঙছেই।