২০১১ সালে অনুমতি পেলেও কাজ শুরু হয়নি

প্রকাশ: ১০ জুন ২০১৪

কাজী শাহেদ, রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহী মহানগরীর উপশহর মোড় থেকে সোনাদীঘির মোড় এবং মালোপাড়া হয়ে সাগরপাড়া বটতলা মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে সরকার অনুমতি দেয় ২০১১ সালে। ওই সড়কের জন্য সে সময় অর্থও বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সড়কটি প্রশস্ত করার কোনো উদ্যোগই নিতে পারেনি রাজশাহী সিটি করপোরেশন।
রাজশাহী-নওগাঁ প্রধান সড়ক থেকে মোহনপুর-রাজশাহী-নাটোর সংযোগ সড়কটি একনেকে অনুমোদন পায় ২০১১ সালের ২০ ডিসেম্বর। ওই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই প্রকল্পটির কাজও শুরু হয়নি।
সরকার অনুমোদন দিয়ে অর্থ বরাদ্দ দিলেও নগরবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়নি। তিন বছর আগে নেওয়া এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশন এখনও কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় শুধু ব্যয় বেড়েছে। সিটি করপোরেশনের তহবিলে সাড়ে ৬৩ কোটি টাকা অলস পড়ে আছে। তবে দিন যত যাচ্ছে, ব্যয়ের পরিমাণ আরও বাড়ছে বলে মনে করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীরা। এখন প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হলেও আগের চেয়ে ব্যয় বেড়েছে। বর্তমান দরে দরপত্র আহ্বান করলে প্রকল্প দুটিতে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে বলে তারা জানান।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ জানায়, নগরীর উপশহর মোড় থেকে সোনাদীঘির মোড় এবং মালোপাড়া হয়ে সাগরপাড়া বটতলা মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পটি ২০১১ সালের ২৩ আগস্ট একনেকে অনুমোদন পায়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৭২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। একনেকের অনুমোদনের পর ২০১৩ সালে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ করে সরকার। সিটি করপোরেশনের তহবিলে টাকা এলেও সড়কটি প্রশস্ত করতে রাসিক এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
রাসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মুর্শেদ জানান, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সড়কটি প্রশস্তকরণের কাজ শুরু করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। জমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে তারা বাধার মুখে পড়েন। নগরীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজশাহী-নওগাঁ প্রধান সড়ক থেকে মোহনপুর-রাজশাহী-নাটোর সংযোগ সড়কটি একনেকে অনুমোদন পায় ২০১১ সালের ২০ ডিসেম্বর। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। ওই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রথম পর্যায়ে সরকার সাড়ে ৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। সড়কটি নির্মাণে কোনো বাধা না থাকলেও এখন পর্যন্ত ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করতে পারেনি রাজশাহী সিটি করপোরেশন।
সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক জানান, ২০১১ সালের হিসাবে প্রকল্পগুলোর ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত কাজ শুরু করতে না পারায় ব্যয় বাড়ছে। প্রকল্প দুটি শুরু করতে আরও দেরি হলে ব্যয় আরও বাড়বে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে দরপত্র আহ্বান করতে যে সময় প্রয়োজন, তাতে প্রকল্প দুটিতে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে হবে।