উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৭ বন্দরে ৫০ হাজার শ্রমিক বেকার

প্রকাশ: ১০ জুন ২০১৪

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি শুল্কবন্দর দিয়ে কয়লা আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় দেড় হাজার আমদানিকারক বিপাকে পড়েছেন। বেকার হয়ে পড়েছে ৫০ হাজার শ্রমিক। সুনামগঞ্জের ব্যাংকগুলোতে টাকা লেনদেন হঠাৎ করেই কমে গেছে। কয়লা বন্ধের প্রভাব পড়েছে সুনামগঞ্জের হাটবাজারেও।
জানা যায়, ভারতের মেঘালয়ের একটি ছাত্র সংগঠনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ এপ্রিল ভারতের ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল মেঘালয় সরকারের অবৈধ কয়লা খনন ও পরিবহন বন্ধের নির্দেশ দেন। এর পরও এ নির্দেশ কার্যকর করতে উদ্যোগ নেয়নি রাজ্যের খনি ও ভূতত্ত্ব বিভাগ। রাজ্যের উত্তর গারো পাহাড় জেলায় খনন বন্ধ থাকলেও অন্য জেলাগুলোয় কয়লা পরিবহন চালু ছিল। গত ৬ মে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় মুখ্য সচিব এ ব্যাপারে প্রতিটি জেলায় নির্দেশ জারি করেন। এতে গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয় মেঘালয়ের জেলা প্রশাসকদের। ফলে ১৩ মে থেকে জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করে কয়লা পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
সোমবার এ বিষয়ে ভারতের শিলংয়ের আদালতে শুনানি হবার কথা ছিল, আদালত শুনানি গ্রহণ না করে ১৬ জুন শুনানির তারিখ ধার্য করেছে। এর পর থেকে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় শুল্কবন্দর সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বড়ছড়া ও এই সীমান্তের চারাগাঁও এবং বাগলী, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, সিলেটের তামাবিল, শ্যাওলা ও সুতারকান্দি শুল্কবন্দর দিয়ে কয়লা আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। আমদানি বন্ধ হওয়ায় প্রায় দেড় হাজার আমদানিকারকের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। বেকার হয়ে পড়েছে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক।
প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের সুনামগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক রণবীর চৌধুরী বলেন, 'প্রতি মাসে দেড় কোটি টাকার এলসি হয়। গত ২৪ দিন কোনো এলসি হয়নি। দেশের বিভিন্ন শাখা থেকে অনলাইনে ব্যবসায়ীদের কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকা আসে, সেটিও বন্ধ ছিল।' ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক গোলাম আজাদ বলেন, 'দেশের বিভিন্ন শাখা থেকে অনলাইনে কোটি টাকা তার ব্যাংকে আসত। গত ২৪ দিন ধরে এ টাকা না আসায় প্রতিদিন এক-দুই কোটি টাকা প্রধান কার্যালয়ে পাঠাতে হয়।'
পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক এএফএম রুহুল আমিন বলেন, 'গত ২৪ দিন এলসি না করতে পারায় কমপক্ষে তিন লাখ টাকার আয় বঞ্চিত হয়েছে ব্যাংক।' ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক খোন্দকার আনোয়ার হোসেন বলেন, 'দিনে গড়ে ৩০-৩৫টি এলসি হতো, যা গত ২৪ দিন হয়নি এবং প্রতিদিন দুই কোটি টাকার কম লেনদেন হচ্ছে তাদের।' বড়ছড়া শুল্ক স্টেশনের কাস্টম কর্মকর্তা হান্নান চৌধুরীর মোবাইল বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা যায়নি। বিশিষ্ট আমদানিকারক মো. গিয়াস উদ্দিন খন্দকার বলেন, 'ভারত কয়লা রফতানি করে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পায়, বাংলাদেশ কাস্টমস কর্তৃপক্ষও বিপুল রাজস্ব পাচ্ছে। কয়লা আমদানি বন্ধ হলে দেশ জ্বালানি সংকটে পড়বে। ভারতের রফতানিকারকরা শুনেছি এ বিষয়ে আইনি লড়াই করছেন।' বড়ছড়ার কয়লা শ্রমিক আবদুল হাই বলেন, 'গত ২৪ দিনে হাতে যা টাকা ছিল, সবই শেষ। আমদানি শুরু না হলে এলাকা ছেড়ে শহরে গিয়ে কাজ খুঁজতে হবে।'
এদিকে, জেলার তিনটি বন্দর দিয়ে আমদানি বন্ধ হওয়ায় এবং ব্যবসায়ীদের কয়লা বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সুনামগঞ্জের ব্যাংকগুলোতে লেনদেন কমে গেছে। বড়ছড়া কাস্টম অফিসের অফিস সহকারী মো. শাজাহান জানান, 'কয়লা আমদানি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন ৭৫ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।' সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খায়রুল হুদা চপল বলেন, 'আইনকানুন মেনেই কয়লা আমদানি চালু রাখার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। শুল্ক বন্দরগুলো (কয়লা বন্দর) বন্ধ থাকলে দুই দেশের সরকার ও ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।'