হুমকিতে দেলদুয়ারের রক্ষা বাঁধ

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪      

আবদুর রহিম, টাঙ্গাইল

হুমকিতে দেলদুয়ারের রক্ষা বাঁধ

টাঙ্গাইল :বাবুপুর-লাউহাটি বাঁধ রক্ষার জন্য জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে সমকাল

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বহীনতা, গাফিলতি ও তদারকির অভাবে হুমকির মুখে পড়েছে দেলদুয়ারের বাবুপুর-লাউহাটি রক্ষা বাঁধ। চারটি ইউনিয়নের দুই শতাধিক গ্রাম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে যেতে পারে। রক্ষা বাঁধের আত্রাব-যুনকাই-দেউলির সংযোগস্থলে মাত্র ৩০০ মিটার ভাঙনকবলিত স্থানে ১০ বছর ধরে মেরামত কাজ চলছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোটি কোটি টাকা পানিতেই চলে যাচ্ছে। শুধু পেট ভরছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তার।
যমুনা ও ধলেশ্বরীর ভাঙন ঠেকাতে বাবুপুর, যুনকাই, ব্রাহ্মণখোলা হয়ে সিলিমপুর, আলালপুর, ভেংরাল হয়ে দেউলি, এলাসিন হয়ে লাউহাটি বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। বাঁধটি বাবুপুর-লাউহাটি রক্ষা বাঁধ নামে পরিচিত। এই বাঁধের আত্রাব-যুনকাই-দেউলির সংযোগস্থলে প্রতি বছরই ভাঙন দেখা দেয়। বর্ষাকালে এই বাঁধের দু'পাশে পানি উচ্চতার ব্যবধান থাকে ৮ থেকে ১০ ফুট। স্রোত ও প্রবল পানির চাপে কয়েক বছর আগে বাঁধ ভেঙে বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছিল হাজার হাজার মানুষ। অথচ এই ভাঙনকবলিত মাত্র ৩০০ মিটার বাঁধ মেরামতের জন্য সরকার খরচ করছে কোটি কোটি টাকা। দেউলি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোহাম্মদ আলী মোল্লা বলেন, প্রতি বছর বন্যার সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু বালির বস্তা ফেলে বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাখে। বন্যা শেষ হলেই তাদের কাজ শেষ। ১০ বছর ধরে মেরামত কাজ হচ্ছে; কিন্তু বন্যা হলেই ভেঙে যাচ্ছে বাঁধ। প্রবল পানির চাপে সোমবার বাঁধটি ভেঙে যায়। পরে আশপাশের লোকজন মাইকে ঘোষণা করে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে কোনো রকমে ভাঙন প্রতিরোধ করে। খবর পেয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এএসএম মহিউদ্দিন খাঁ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ ভাঙনকবলিত স্থানে ছুটে যান।
গত ১০ এপ্রিল ৩০০ মিটার বাঁধ মেরামতের জন্য ৩৩ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। ৩০ এপ্রিল জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী ভিত্তিতে বাঁধ সংস্কারের কাজ পায় সাদিক এন্টারপ্রাইজ নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর বাঁধ মেরামতের জন্য ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। গত ১০ বছরে এই বাঁধ সংস্কারের জন্য দশবার টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। দেউলি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, প্রায় সাড়ে ৩ মাসে ঠিকাদার শুধু ড্রেজার মেশিন দিয়ে সামান্য বালি ফেলেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের তদারকির অভাব ও দুর্নীতির কারণে এই অবস্থা হয়েছে। সাধারণ মানের জিও ব্যাগ ফেলে বাঁশের বলি্ল দিয়ে সব টাকা লুটপাট করা হয়েছে। বরাদ্দের নামে কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে এই বাঁধ থেকে।
দেলদুয়ার থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মলি্লক বলেন, ৩০০ মিটার ভাঙন প্রতিরোধে গত ১০ বছরে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। কিন্তু কাজ কিছুই হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে এই বাঁধ নির্মিত হয়নি। অথচ এই বাঁধ ভেঙে গেলে আটিয়া, দেউলি, এলাসিন, সিলিমপুর ইউনিয়নের প্রায় ২০০ গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়বে। নষ্ট হবে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি।
বাঁধের মেরামত কাজ পরির্দশন করে ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করে জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন বলেন, এই কাজের মান নিয়ে আমি সন্দিহান। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সচিবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ও যাতে এই বাঁধটি স্থায়ী নির্মাণ হয় তার জন্য অনুরোধ করেছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ বলেন, ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী নির্মাণের জন্য প্রতি বছর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি বাবুপুর-লাউহাটি ৩.৬৫ কিলোমিটার রক্ষা বাঁধটি স্থায়ী মেরামতের জন্য পৌনে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য প্রস্তাব করেছেন। এই বরাদ্দ পেলে স্থায়ী ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।