জামায়াতের সহিংসতায় নিহত পুলিশের স্ত্রী ওমেদা

জীবনের চাকা যেন ঘোরেই না

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪      

আমিনুল হক, উত্তরাঞ্চল

জীবনের চাকা যেন ঘোরেই না

জামায়াত-শিবিরের হাতে নিহত পুলিশ কনস্টেবল মোজাহার আলীর পরিবার। ইনসেটে নিহত মোজাহার আলী সমকাল

জামায়াত-শিবির কর্মীদের হামলায় নিহত পুলিশ সদস্য মোজাহার আলীর পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। চার সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন নিহতের স্ত্রী ওমেদা বেগম।
ওমেদা বেগম জানান, তৃতীয় মেয়ে নূরবানু আক্তার মিনা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারেনি। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে। লাভ হয়নি। শেষে রংপুরের একটি কলেজে ভর্তি হয়েছে। একই কলেজে পড়ছে দ্বিতীয় মেয়ে কোহেনুর আক্তার মিতিও। তিনি বিবিএসের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ছেলে ওমর ফারুক এবারে এসএসসি পাস করে ভর্তি হয়েছে রংপুরের বিয়াম কলেজে। তাদের পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য ওমেদাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বড় মেয়ে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। চিকিৎসার টাকা নেই। তাই ওমেদা বলেন, তার জীবনের চাকা যেন ঘুরতেই চায় না।
ওমেদা জানান, সাঈদীর বিচারের রায়ের দিন ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তার স্বামী মোজাহার আলী রংপুর জেলার পীরগাছা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত ছিলেন। দুপুর আড়াইটার দিকে জামায়াত-শিবির বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের কিছুক্ষণ আগে স্ত্রী ওমেদার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন এবং কথা বলতে বলতেই লাইন কেটে যায়। এরপর অনেক চেষ্টা করেও স্বামীর মোবাইল ফোনে সংযোগ পাননি ওমেদা। কিছুক্ষণ পর তার বাড়ির পাশের দোকানি এসে জানান, রংপুর মেডিকেলে কয়েকজন আহত পুলিশকে ভর্তি করা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে তার মধ্যে মোজাহার আলীও আছেন। এ কথা শুনেই তিনি মেডিকেলে ছুটে যান। সেখানে পেঁৗছার কিছুক্ষণ পর অ্যাম্বুলেন্সে তাকে মেডিকেলে আনা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে পুলিশ সদস্য মোজাহারকে গত বছরের ২ মার্চ ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ৫ মার্চ তিনি মারা যান।
ওমেদা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছিলেন। ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন ৮ লাখ টাকা। সবাই ১০ লাখ করে টাকা পেলেও তিনি কেন ৮ লাখ টাকা পেলেন জানেন না। এখন তিনি স্বামীর পেনশন পান ৪ হাজার ৯০০ টাকা করে। এ টাকায় তো সংসার চলে না। নিহত কনস্টেবল মোজাহার আলীর বাড়ি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নশরতপুর রানীরবন্দর গ্রামে। ওমেদা তার সন্তানদের নিয়ে এখন বসবাস করছেন রংপুরে।