লঞ্চযাত্রীরা এখনও ফেরিতে পার হচ্ছেন

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪      

জিএমএম অপু, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চর্শামাইল গ্রামের অসুস্থ মো. কিবরিয়া। ডাক্তার দেখাতে ঢাকায় যাচ্ছেন। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ছেলে, মেয়ে ও ছেলের বউ বলে দিয়েছেন, 'বাবা যত দেরিই হোক ফেরিতে যাবেন, লঞ্চে যাবেন না।' এক পর্যায়ে রোববার বেলা ১১টার দিকে কাওড়াকান্দি ঘাটে লঞ্চ থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রায় ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করেন রো-রো ফেরি শাহ আলীর জন্য। পথে আলাপকালে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, নিরাপদের জন্য ফেরিতে পাড়ি দিয়েছি। পদ্মার অবস্থা ভালো নয়।
ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ আবদুস সালাম। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার উৎরাইলে গ্রামের বাড়ি হলেও ব্যবসা করেন ঢাকায়। লঞ্চ দুর্ঘটনার পর চরম আতঙ্কে রয়েছেন পদ্মা পাড়ি নিয়ে। তিনি জানান, ঘাটে লঞ্চ ছিল। তবুও ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করেছি একটি ফেরির জন্য। তাই যাত্রী নামার আগেই বহু ঝুঁকি নিয়ে ফেরিতে উঠলাম।
এমএল পিনাক-৬ লঞ্চ দুর্ঘটনার ২১ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও পদ্মা পাড়ি দিতে চরম আতঙ্কে রয়েছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল অঞ্চলের সাধারণ যাত্রীরা। পদ্মা পাড়ি দেওয়া এসব যাত্রী এখনও ভোলেননি হৃদয়বিদারক মর্মান্তিক সেই ঘটনা। এতে করে এ অঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার মাওয়া-কাওড়াকান্দি-মাঝিকান্দি নৌরুটের পদ্মায় পাল্টে গেছে যাত্রী পারাপারের চিত্র। দুর্ঘটনার পর থেকে হাজার হাজার যাত্রী লঞ্চ উপেক্ষা করে ফেরিতে চলাচল করছেন। তবে তাদের মাঝে এখনও কাটেনি লঞ্চ আতঙ্ক। অন্যদিকে নদীপথে ঝুঁকিপূর্ণ নৌচলাচল এড়াতে তৎপর হয়ে পড়েছেন যাত্রীসাধারণসহ সংশ্লিষ্ট সবাই। নৌরুটে লঞ্চ, স্পিডবোট ও ফেরিতে বিশেষ ব্যবস্থার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহনসহ চলাচলরত লঞ্চগুলোর ফিটনেস, সার্ভে ও টাইম-টেবিলসহ নদীর আবহাওয়া বুঝে নৌচলাচলের বিষয়টি তদারকির জন্য মাওয়া ঘাটে সার্বক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া ৬৫ ফুটের কম দৈর্ঘ্যের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছে মাওয়া নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ। লাইফ জ্যাকেট ছাড়া কোনো যাত্রীকে পদ্মা পাড়ি দিতে দিচ্ছে না স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও স্পিডবোট ঘাট মালিকরা।
স্পিডবোট মালিক শেখ মো. জামান, শাহ আলম, মাহবুব, আক্তার, দিনু খাঁ, মাসুদ, আলমগীরসহ অনেকেরই ৫০টি করে ৪০০টির মতো লাইফ জ্যাকেট রয়েছে। এগুলো সার্বক্ষণিকভাবে বোটগুলোতে রেখে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।