মেয়ে-শাশুড়ির সামনে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪      

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

'মারে মাইরো না বাবা। আমি তোমার পায়ে ধইরা কইতাছি। মারে মাইরা ফালাইলে আমরা কারে মা ডাকুম। মারে মাফ কইরা দেও বাবা।' নিষ্পাপ শিশু ফারজানার এমন করুণ মিনতিও পাষণ্ড বাবা ফজলুল হকের কানে পেঁৗছেনি। শ্রীপুরের পূর্ব শৈলাট গ্রামে ফজলুল হক নামে স্থানীয় এক মসজিদের মোয়াজ্জিন গতকাল সোমবার ফজরের নামাজের সময় দুই শিশুকন্যা আর শাশুড়ির সামনে ঠাণ্ডা মাথায় স্ত্রী পারভীন আক্তারকে গলা কেটে হত্যা করেছে। এ সময় বাধা দেওয়ায় পারভীনের মা আনোয়ারাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে ফজলুল হক ও তার ভাড়াটে খুনিরা।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, একই এলাকার গেদু মণ্ডলের ছেলে ফজলুল হকের সঙ্গে পারভীনের বিয়ে হয়। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ূয়া ফারজানা, চার বছরের ফারহানা ও স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করছিলেন ফজলুল হক। শ্বশুর আলী হোসেন মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে এক বিঘা জমিও লিখে দেন দুই নাতনির নামে। বিদেশ থেকে আনা টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করছিলেন ফজলু। কিন্তু ব্যবসায় লোকসান দিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই কলহ চলছিল। মাসদেড়েক আগে ফজলুর অত্যাচারে পারভীন বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। দু'দিন আগে ফিরে আসে। বাড়ি ছেড়ে স্ত্রীর অন্যত্র চলে যাওয়া মেনে নিতে না পেরে ফজলুল হক সোমবার ফজরের নামাজের সময় প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পারভীনকে। পারভীনের বাবা ফজরের নামাজ আদায় করতে মসজিদে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, হৈচৈ শুনে মসজিদ থেকে বেরিয়ে দেখি ফজলুর সঙ্গে আরও পাঁচ-ছয় যুবক দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক ফরিদ জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।