কেরানীগঞ্জে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় অফিস ঘেরাও

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪      

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি

উপজেলায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রতিবাদে অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে সংশ্লিষ্টরা। এক মাস ধরে কেরানীগঞ্জ থেকে প্রায় ১০ হাজার অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর আগে মধ্যেরচর এলাকায় ৮ হাজার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দেয়।
রোববার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মডেল থানার খোলামোড়া, জিয়ানগর, নুরানীগঞ্জ, ঘাটারচর, বালুরচর ও ঝাউচর এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান চালিয়েছে
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা জেলা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মাহবুব উর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের উপস্থিতিতে প্রায় ২ হাজার গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অবৈধ লাইন বিচ্ছিন্ন করার প্রতিবাদে কেরানীগঞ্জ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন অফিস ঘেরাও ও বিক্ষোভ করে এলাকার নারী-পুরুষ। উপজেলায় ৫০ হাজার অবৈধ সংযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
জিয়ানগর এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম, সীমা বেগম ও সুবিয়া খাতুন বলেন, তাদের কাছ থেকে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা নিয়ে একটি চক্র এলাকায় প্রায় চারশ' পরিবারকে গ্যাস লাইন দেয়। এই চক্রের সঙ্গে গ্যাস কর্তৃপক্ষ জড়িত। এখন রাতের অন্ধকারে গ্যাস বন্ধ করে দেওয়ায় তারা চরম বেকায়দায় পড়েছেন। নতুন করে গ্যাস সংযোগ না দেওয়া হলে
তারা রাজপথে মিছিল-মিটিং করতে বাধ্য হবেন।
ঢাকা জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মাহবুব উর রহমান বলেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো গ্রাহককে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে না। পর্যায়ক্রমে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। অবৈধ সংযোগকারীরা বৈধ করার জন্য কোনো চেষ্টা করেনি।
তিতাসের জিনজিরা জোনাল অফিসের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. নুরুল আমীন বলেন, কেরানীগঞ্জে সাত-আটটি গ্রামে কয়েকশ' পরিবার অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়েছে। এসব পরিবারের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় একটি চক্র। দীর্ঘদিন ধরে তারা অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করে আসছিল। সরকারি সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও তারা বৈধ করেনি। কেরানীগঞ্জে যারা অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়েছে, তা বিচ্ছিন্ন করা হবে।