মানিকগঞ্জে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪      

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আবারও প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। সিনিয়র নেতাদের মধ্যে মারামারি, মামলা ও কোন্দলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মানিকগঞ্জের কর্মিসভা স্থগিত হয়েছে। আগামী ২৭ আগস্ট এ কর্মিসভা হওয়ার কথা ছিল। কর্মিসভা উপলক্ষে রোববার সন্ধ্যায় জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রীতার ঢাকার ধানমণ্ডির বাসায় জেলা বিএনপির সভা ডাকা হয়। ওই সভায় ১৬ জনের কমিটির মধ্যে সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল ইসলাম শান্ত, সহসভাপতি মাহাবুল হোসেন মহব্বত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোতালেব হোসেন ও দপ্তর সম্পাদক আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন না। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএ কবির জিন্নাহ জানান, সভা শুরুর পর ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয় থেকে নেতাকর্মীদের ২৭ আগস্ট কর্মিসভায় আনার ব্যাপারে কথা ওঠে। এ নিয়ে জেলা বিএনপির সহসভাপতি খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু ও দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হক তোজার মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের সঙ্গে সোমবার বিকেলে জেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতাদের বৈঠক হয়। বৈঠকে আগামী ২৭ আগস্ট মানিকগঞ্জের কর্মিসমাবেশ স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এদিকে এ ঘটনার পর খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবুল বাদী হয়ে ধানমণ্ডি থানায় জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হক তোজাসহ ৭-৮ জনের নামে সোমবার একটি মামলা করেছেন। তিনি মামলায় উল্লেখ করেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মানিকগঞ্জে আগমন উপলক্ষে কর্মিসভায় দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক তোজা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন। তোজার নির্দেশে সভার বাইরে থাকা ৭-৮ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি সভাকক্ষে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি তাকে ও তার ভাই খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলুকে মারধর করাসহ প্রাণনাশের হুমকি দেন।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হক তোজা জানান, রোববার সন্ধ্যায় জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রীতার ঢাকার বাসায় বৈঠক চলাকালে খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলুর সঙ্গে কর্মিসভায় লোকজন আনা নিয়ে তার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ডাবলু ও বাবলু দুই ভাই মিলে তার গায়ে হাত তোলে। ডাবুলকে প্রাণনাশের অভিযোগের ব্যাপারে তিনি জানান, ধানমণ্ডি থানায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা করেছেন ডাবলু। তিনি কাউকে প্রাণনাশের হুমকি দেননি।
মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আজকের নয়। বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ও সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি হয়। ১৯৯৮ সালে আরিচা ঘাটে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সামনেই জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তখন খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে জেলা বিএনপির সভাপতির পদ থেকে বাদ দিয়ে হারুনার রশিদ খান মুন্নুকে আহ্বায়ক করে জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই আহ্বায়ক কমিটিও বেশি দিন টেকেনি। এরপর এক যুগ জেলা বিএনপির কমিটি ছাড়াই ছিলেন নেতাকর্মীরা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জেলা বিএনপির কর্মকাণ্ড পরিচালনা হয়েছে চার গ্রুপে। যে কারণে সরকারবিরোধী আন্দোলন মানিকগঞ্জে সফল হয়নি। তৎকালীন বিএনপির মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তোজাম্মেল হক তোজা। বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজয় ঘটে বিএনপি মহাসচিবের।

অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মধ্যেই অবশেষে ২০১৩ সালে ৮ জুন হারুনার রশিদ খান মুন্নুর মেয়ে আফরোজা খান রীতাকে সভাপতি, প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলুকে সহসভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী শামছুল ইসলামের ছেলে মাঈনুল ইসলাম শান্তকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৬ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি। বিএনপির অনেক যোগ্য নেতা এ কমিটিতে স্থান না পেয়ে ক্ষুব্ধ হন। তাদের মতে, যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, তা পারিবারিক কমিটি। এরপর কিছু দিন মিলেমিশে কয়েকটি কর্মসূচি পালন করলেও উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে বিরোধ দেখা দেয় সভাপতি আফরোজা খান রীতা ও সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল ইসলাম খান শান্তর মধ্যে। বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও ভাগ হয়ে দুই গ্রুপে চলে যায়। বর্তমানে জেলা বিএনপির মধ্যে চলছে গ্রুপের শক্তি বৃদ্ধির পালা।