কোরবানির ঈদ সামনে রেখে জমে উঠেছে গরুর হাট। বেচাকেনাও হচ্ছে। তবে দেশি গরুর দাম একটু বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। ভারতের গরু এলেও ক্রেতাদের পছন্দ দেশি ও ছোট গরু। প্রতিনিধিনের পাঠানো খবর :
ঈশ্বরদী (পাবনা) :ঈশ্বরদীর অরণকোলা পশু হাটে কোরবানির পশু বেচাকেনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কোরবানির জন্য পশু ক্রয় শুরু হয়ে গেছে। এবার গরু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতিতে বড় করা গরুর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বেশিরভাগ মানুষ। দেশি গরু ক্রয়ের দিকে নজর দিচ্ছেন অধিকাংশ ক্রেতা। ঈশ্বরদীর গ্রামে গ্রামে এবার প্রচুর পরিমাণ দেশি গরু বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে।
হাটের ইজারাদার জানান, এই হাটে কোরবানির পশু ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে এবার সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখতে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। পৌর মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু জানান, পৌরসভার নিজস্ব আয়ের বড় খাত অরণকোলা হাটে পশু আনা-নেওয়ার সময় পথে যে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি রোধকল্পেও টিম গঠন করা হয়েছে। ঈশ্বরদী থানার ওসি বিমান কুমার দাশ জানান, শহরের প্রবেশপথে অতিরিক্ত পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ সার্বক্ষণিক পাহারায় রাখা হয়েছে, যাতে হাটে আসা-যাওয়ার পথে ক্রেতা-বিক্রেতারা কোনো ঝামেলায় না পড়েন।
ভৈরব :ভৈরবে পশুর হাট জমে উঠেছে। রোববার হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা, পাইকারদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। হাটের প্রথম দিন গরুর আমদানি ছিল প্রচুর। দেশি গরুর পাশাপাশি ভারতীয় গরুও হাটে উঠেছে। গরুর দাম গত বছরের তুলনায় বেশি। তবে ছাগলের দামও গরুর দামের চেয়ে কোনো অংশে কম নয় বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
হাটে গরু ক্রয় করতে আসা মো. বাদল মিয়া জানান, গত ২ বছরের তুলনায় এ বছর গরুর দাম অনেক বেশি। ভৈরবে পৌর এলাকার স্টেডিয়াম, শিমুলকান্দি, কালিকাপ্রসাদ, নোয়াগাঁও, গজারিয়া ও ঝগড়ারচরে গরুর হাট বসবে।
স্টেডিয়াম হাটে গরু কিনতে আসা ভৈরব শহরের কমলপুর গ্রামের রইছ মিয়া জানান, বড় গরুর চেয়ে মাঝারি সাইজের গরুর দাম বেশি।
ভৈরব পৌর স্টেডিয়ামের ইজারাদার শরিফ জানান, ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়াম মাঠে বরারের মতো এবারও গরু, মহিষ ও ছাগলের হাট জমজমাট। এরই মধ্যে গরু ক্রেতা-বিক্রেতাদের লেনদেনের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাতে পশু কেনাবেচা করার জন্য পর্যাপ্ত লাইটিং, স্যানিটেশন, গরু রাখার জন্য সুব্যবস্থা করা হয়েছে।
পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) :কোরবানির পশুর হাট ক্রেতাদের ভিড়ে জমে উঠেছে। তবে দেশি গরুর দাম বেশি। বৈরচুনা, জাবরহাট, নাসিরগঞ্জ, লোহাগাড়া, কলেজ হাট ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগমে এখন জমজমাট পশুর হাট। এবারের হাটে দেশি গরুর দিকে বেশি ঝুঁকছেন ক্রেতারা। ভারতীয় গরু কম থাকায় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে কোরবানির বাজার বেশ জমে উঠেছে। বড় গরু বেচাকেনা কম হলেও এবার ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা অনেক বেশি।
জিয়ানগর (পিরোজপুর) :জমে উঠেছে জিয়ানগরের কোরবানির পশুর হাট। এ বছর পশুর দাম বেশি থাকলেও এ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে দেশি পশুর আমদানি অনেক বেশি। পশুর দাম বেশি থাকায় ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে দাম হাঁকছেন। বেচাকেনা তুলনামূলক কম হচ্ছে। ইন্দুরকানী বাজার ঘুরে দেখা যায়, পশুর হাটে উপচেপড়া ভিড়। রোববার উপজেলার চণ্ডিপুর বাজারে দেশি গরুর আমদানি অনেক বেশি দেখা যায়। ক্রেতাদের ছোট ও কম দামের পশুর দিকে আকর্ষণ বেশি।
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) :উপজেলার পশুর হাটে জমজমাট বেচাকেনা শুরু হয়েছে। তবে হাটে কোরবানির পশু আসছে কম। এ বছর কোরবানির হাটে বিদেশি গরুর আমদানি কম হওয়ায় দেশি গরুর চাহিদা বেড়ে গেছে। আর এ সুযোগে গরুর চড়া দাম হাঁকছেন ব্যবসায়ীরা। শমশেরনগর বাজারে বিরাট হাট বসে। এ ছাড়া মুন্সীবাজার ও ভানুগাছ বাজারেও বিরাট গরু-ছাগলের হাট বসে। এসব হাটে দেশি ছাড়াও বিদেশি গরুতে ভরপুর বলে সংশ্লিষ্ট বাজার ইজারাদাররা জানান। কিছু দিন ধরে কমলগঞ্জে বিদেশি গরু আসার হার কমে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে যে হারে গরু কমলগঞ্জে আসত কোরবানি উপলক্ষে সে পরিমাণ গরু আসছে না। স্থানীয় খামারিরা হাটে যেসব দেশি গরু তুলছেন তার দাম চড়া। আদমপুর গরুর বাজারে কোরবানির গরু কিনতে আসা ক্রেতা ডা. নুরুল ইসলাম জানান, বাজারে বিদেশি গরু কম। তবে দেশি গরু প্রচুর উঠলেও বিক্রেতারা অনেক বেশি দাম হাঁকছেন। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক গরুর হাটের দিন গরু দেখেই ফিরে গেছেন। বাজারে ওইদিন প্রচুর গরু উঠলেও তেমন বেচাকেনা হয়নি। হাট পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিটি হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত কমলগঞ্জের ভানুগাছ, শমশেরনগর, মুন্সীবাজার ও আদমপুর বাজারে গরুর হাট বসবে।

মন্তব্য করুন