ফরিদগঞ্জের নারীরা ৫০ বছর ভোট দেন না

কুসংস্কার

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬      

নাসির উদ্দিন পাঠান, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর)

জাহানারা বেগম ফরিদগঞ্জের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত নারী সদস্য। কিন্তু কোনো নারীর ভোটে নয়, শুধু পুরুষের ভোটেই তিনি নির্বাচিত সদস্য। এজন্য তার কোনো আক্ষেপের শেষ নেই। তারও আশা নারীরা এগিয়ে এসে ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করুক। কিন্তু সেই আশা তার এখনও পূরণ হয়নি। এবারও তা হবে কি? সেই জবাব তার জানা নেই। কারণ, প্রায় অর্ধশত বছর ধরেই এ ইউনিয়নের নারীরা তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত। শুধু একটি অপপ্রচার আর কুসংস্কারের ওপর ভিত্তি করে বছরের পর বছর ধরে এমন রীতি চলে আসছে এখানে। এখানকার নারীরা ধরেই নিয়েছেন তাদের ভোটের অধিকার নেই। তাই আসছে ইউপি নির্বাচনে আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে এই এলাকার প্রায় ৯ হাজার নারী ভোটারের ভোট দেওয়ার বিষয়টি। এদিকে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, এবার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে নারীদের ভোটকেন্দ্রে এনে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার।
জনশ্রুতি রয়েছে, আজ থেকে অর্ধশত বছর আগে স্থানীয় গৃদকালিন্দিয়া এলাকায় কলেরা ছড়িয়ে পড়েছিল। এ সময় এক পীর নারীদের পর্দার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেন। তখন থেকেই নারীদের ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়।
এদিকে শুধু ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকা ছাড়া বাকি সব কাজই এখানকার পুরুষদের থেকে এগিয়ে নারীরা। হাট-বাজার থেকে শুরু করে অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা সব ক্ষেত্রেই নারীর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। শিক্ষার হারেও এখানকার নারীরা এগিয়ে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল খান বলেন, একটি কুসংস্কারে বিশ্বাস করে নারীরা ভোটকেন্দ্রে যান না। তবে বর্তমানে নারী ভোটার নিয়ে নোংরা রাজনীতিও রয়েছে। তারা চান না নারীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুক।
স্থানীয় বাসিন্দা ইসকান্দার মিয়া বলেন, নারীদের ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়ে পীরের নিষেধ আছে, কথাটি ঠিক নয়। পীর সাহেব নারীদের পর্দা করতে বলেছেন, ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেননি।
স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা এমিলি বেগম বলেন, এই এলাকার নারীরা সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে; কিন্তু তারা ভোট দিতে পারবেন না এটা মেনে নেওয়া যায় না। তবে ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি আমাদের মা, দাদি-নানিরা ভোট দেন না, তাই ইচ্ছা থাকার পরও আমরা ভোট দিতে পারছি না।
এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবদীন বলেন, বিগত বছরগুলোতেও নির্বাচনের আগে প্রশাসন নানাভাবে নারীদের ভোটদানে উৎসাহিত করে এসেছে। এবারও আমরা সে চেষ্টা করব। প্রয়োজনে আলেম ওলামা ও স্থানীয় মসজিদের ইমামদের কাজে লাগানো হবে।
ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. একেএম মাহবুবুর রহমান বলেন, পর্দার মধ্যে থেকে ভোট দেওয়া নারীদের জন্য নিষেধ নেই। এখানকার নারীরা চাইলে পর্দার সহিত তাদের ভোট দিতে পারেন। কারণ, ভোট যে কোনো নাগরিকের অধিকার।