শ্রীবরদীতে বাঘ ধরা অভিযান

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬      

শেরপুর প্রতিনিধি

বাঘ এসেছে, বাঘ এসেছে- এমন কথা মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল বালুর চর গ্রামে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শ্রীবরদী উপজেলার রানিশিমুল ইউনিয়নের এ গ্রামে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় বনবিভাগের কর্মচারীরা একটি ভুট্টার ক্ষেতে গিয়ে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পায়। পরে বিষয়টি জেলা বনবিভাগকে অবহিত করা হয়।
গতকাল শুক্রবার জেলা বনবিভাগের পক্ষ থেকে শেরপুর বন বিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে ঢাকা থেকে আসা প্রাণী চিকিৎসক ডা. আবু সাইদসহ প্রায় ৫০ জনের একটি দল বালুচর গ্রামের মফিজ মিয়ার সাড়ে ৬ একর জমিতে লাগানো ভুট্টার ক্ষেতে তল্লাশি চালায়। চেতনানাশক বন্দুক, নেটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে প্রায় ৪ ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়েও বাঘের সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিকেলে তল্লাশি অভিযান সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
রানিশিমুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আবু শামা বলেন, কিছুদিন আগে যে বাঘটিকে মেরে ফেলা হয়েছে, মনে হয় গ্রামবাসীর দেখতে পাওয়া বাঘটি তার সঙ্গী। তাকে খুঁজতেই সে এসেছিল।
ভুট্টা ক্ষেতের মালিক মফিজ মিয়া বলেন, এলাকার লোকজন দু'দিন বাঘের গর্জন শুনেছে। কয়েকজন বাঘ দেখতেও পেয়েছে।
শেরপুর বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ভুট্টা ক্ষেতে বাঘ আসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি বলেন, এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিতাবাঘ বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী। এদের রক্ষা করার জন্য জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি বুধবার শ্রীবরদী উপজেলার জালকাটা গ্রামে একটি চিতাবাঘের আক্রমণে পৌর মেয়র মো. আবু সাইদ গুরুতর আহত হন। পরে বিক্ষুব্ধ লোকজন চিতাবাঘটিকে পিটিয়ে হত্যা করে।