পাবনায় টিসিবির পণ্য বিক্রি নিয়ে নয়ছয়

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬      

এবিএম ফজলুর রহমান, পাবনা

রমজান উপলক্ষে পাবনায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির পণ্য বিক্রি নিয়ে নয়ছয় শুরু হয়েছে। তবে অধিকাংশ পণ্য ট্রাকে না থাকায় তা কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। পাঁচটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য স্বল্পমূল্যে পাওয়ার এ ব্যবস্থাকে ক্রেতারা স্বাগত জানালেও চাহিদা অনুযায়ী না পেয়ে ক্ষুব্ধ তারা। কেউ কেউ পণ্যের মান নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, পাবনার মতো বড় শহরে মাত্র দুটি ট্রাকে কতজনকেই বা এই সেবা দেওয়া সম্ভব। ট্রাক ও বিক্রির পয়েন্ট বাড়ানোর দাবি ভোক্তাদের। এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানা নেই ব্যবসায়ী নেতা ও জেলা প্রশাসনের। অন্যদিকে, শুরুর দিকে ডিলারদের পণ্যের বরাদ্দ বেশি থাকলেও রমজান মাস উপলক্ষে বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে টিসিবি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২৯ মে থেকে পাবনায় শুরু হয়েছে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে স্বল্পমূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি। দুটি ট্রাকে খোলা বাজারে চলছে এই পণ্য বিক্রি। সরবরাহ করা হচ্ছে মূলত চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও সয়াবিন তেল। খেজুর বিক্রির কথা থাকলেও তা মিলছে না। জেলার ঈশ্বরদী উপজেলা দু'জন ডিলার সুমন স্টোরের সিরাজুল ইসলাম শিবলু ও ইসলামী ট্রেডার্সের সাইফুল ইসলাম তার এলাকায় পণ্য বিক্রি না করে টিসিবির পণ্য বিক্রি করছেন পাবনার বিভিন্ন এলাকায়। প্রতি কেজি চিনি ৪৮, সয়াবিন তেল ৮০, মসুর ডাল ৯০ ও ছোলা ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একজন ক্রেতা একসঙ্গে ২ কেজি ডাল, ৪ কেজি চিনি, ৫ কেজি ছোলা ও ৫ লিটার তেল কিনতে পারবেন। তবে ক্রেতার ভিড় ও চাহিদা থাকলেও পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। এ কারণে ক্রেতারা ক্ষুব্ধ। কিনতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে।
টিসিবির পণ্য কিনতে আসা আবুল কালাম বলেন, পাবনার মতো বড় শহরে দুটি ট্রাকে করে টিসিবির পণ্য বিক্রি সাধারণ মানুষের চাহিদা মিটছে না। তা ছাড়া সামান্য কিছু মাল বিক্রির পর আর দেওয়া হচ্ছে না। বেশিরভাগ পণ্য কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় পণ্য কিনতে এসে না পেয়ে তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে। সাইফুল ইসলাম নামে অপর এক ক্রেতা বলেন, অনেকে টিসিবির পণ্য কিনে অন্য জায়গায়, কিংবা মুদি দোকানে বিক্রি করছে। এতে অনেকেই সুফল পাচ্ছেন না। হাসিনা আক্তার নামের এক গৃহিণী বলেন, টিসিবির দু-একটি পণ্যের মান ভালো নয়। মানসম্পন্ন পণ্য বেশি করে সরবরাহ করা গেলে রমজান মাসে তারা উপকৃত হবেন। তারা উপজেলা সদরগুলোতে একটি বা দুটি ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
সুমন স্টোরের সিরাজুল ইসলাম শিবলু ও ইসলামী ট্রেডার্সের সাইফুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী থেকে তাদের নামে সপ্তাহে দু'দিনের টিসিবির পণ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেখান থেকে পণ্য তুলে এনে দু'দিন বিক্রি করি। শুরুর দিকে বরাদ্দ বেশি থাকলেও বর্তমানে সেই বরাদ্দ আরও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ দিতে পারছেন না। বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানো গেলে চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
পাবনা চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুব-উল-আলম মুকুল বলেন, কারা টিসিবির ডিলার, কীভাবে বা বাস্তবায়ন হয় পণ্য বিক্রির প্রক্রিয়াটি। খতিয়ে দেখা হয় না সাধারণ মানুষ টিসিবির সেবা পাচ্ছে কি-না। কম মূল্যে মানুষকে পণ্যসেবা দেওয়ার সরকারের যে লক্ষ্য তা পূরণ হচ্ছে না।
পাবনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য শাখার উচ্চমান সহকারী অনির্বরণ হালদার জানান, এ বছর টিসিবির কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। কোনো বরাদ্দপত্রের চিঠিও আসেনি। টিসিবি সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না।
পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুন্সী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রাজশাহীতে টিসিবির আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পণ্য বিক্রির বিষয়টি দেখা হয়। পাবনায় টিসিবির তিন ডিলার আছেন। তারা তাদের বরাদ্দ তুলে আনার পর তাদের একটি চিঠি দেন।
এদিকে ডিলারদের টিসিবির পণ্যের বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুরুতে প্রতি ডিলারকে একদিনে বিক্রির জন্য ছোলা ৮০০ কেজি, চিনি ৪০০ কেজি, তেল ৪০০ কেজি, ডাল ২০০ কেজি করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে ২ জুন টিসিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে রমজান মাস উপলক্ষে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পণ্য বিক্রির বরাদ্দ সংশোধন করে কমিয়ে দেওয়া হয়। এ কারণে ক্রেতারা চিনি সর্বোচ্চ ২ কেজি, মসুর ডাল ২ কেজি ও ছোলা সর্বোচ্চ ২ কেজি করে কিনতে পারেন।