ভোগান্তিতে উত্তরাঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রী

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬      

মাহমুদুর রহমান, পার্বতীপুর (দিনাজপুর)

শহীদুল্লাহ মিয়া পরিবার নিয়ে রূপসা ট্রেনে খুলনা থেকে পার্বতীপুরে আসেন রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে। তিনি যাবেন লালমনিরহাট স্টেশনে। জানতে পারলেন ভোর ৪টার আগে ওই রুটে কোনো ট্রেন নেই। বাধ্য হয়ে স্টেশনে রাত কাটল তাদের। শফিকুল ইসলাম নামের আরেক যাত্রী ঢাকা থেকে নীল সাগর ট্রেনে বিকেল সোয়া ৪টায় পার্বতীপুরে এসে জানলেন, ১২ ঘণ্টার মধ্যে বিভাগীয় শহর রংপুর যাওয়ার কোনো ট্রেন নেই। বাধ্য হয়ে সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশে রওনা দিলেন তিনি। ব্যবসায়ী একরামুল হক রংপুর থেকে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে পার্বতীপুর এসে জানলেন, ১০ মিনিট আগে দ্রুতযান ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। ফলে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের অপেক্ষায় সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে তাকে। শুধু শহীদুল্লাহ, শফিকুল আর একরামুল নন, টাইম টেবিলের জাঁতাকলে পড়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার হাজার হাজার ট্রেন যাত্রী । এর ফলে ট্রেনের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন সাধারণ মানুষ। অনেকেই ট্রেন ভ্রমণ ছেড়ে দিয়ে সড়কপথ বেছে নিয়েছেন। এতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে রেলওয়ে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে লাভবান হচ্ছেন পরিবহন মালিকরা। যাত্রীদের অভিযোগ, রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাস মালিকদের যোগসাজসে এ টাইম টেবিল প্রণয়ন করা হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, অপরিকল্পিত সময়সূচি অনুযায়ী পশ্চিম রেলে চলছে আটটি আন্তঃনগরসহ ১৬টি ট্রেন। এর মধ্যে বরেন্দ্র ট্রেনটি সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে গিয়ে ফিরে আসে রাত ৭টা ৪০ মিনিটে। একই রুটে তিতুমীর ট্রেনটি বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে গিয়ে ফিরে আসে পরদিন বেলা ১১টা ২০ মিনিটে। খুলনাগামী রূপসা ট্রেনটি সকাল সাড়ে ৮টায় পার্বতীপুর ছেড়ে যায়। ফিরে আসে বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে। একই রুটে সীমান্ত ট্রেনটি পার্বতীপুর ছেড়ে যায় রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে। ফিরে আসে পরদিন ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে। ঢাকাগামী দ্রুতযান ট্রেনটি সকাল ৯টায় ছেড়ে গিয়ে পার্বতীপুর ফিরে আসে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে। একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাত ১০টা ৪০ মিনিটে পার্বতীপুর ছেড়ে গিয়ে ফিরে আসে পরদিন বিকেল ৬টা ২০ মিনিটে। নামমাত্র বিলাসবহুল নীল সাগর ট্রেনটি রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে গিয়ে ফিরে আসে পরদিন বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে। এ ছাড়া রাজশাহীগামী উত্তরা মেইল ভোর সোয়া ৪টা ও খুলনাগামী মেইল ট্রেনটি সকাল ৯টায় পার্বতীপুর ছেড়ে যায়। এদিকে মিটারগেজ সেকশনে লালমনিরহাট অঞ্চলের সান্তাহার, কুড়িগ্রাম ও বুড়িমারীর উদ্দেশে ভোর সাড়ে ৫টা থেকে দুপুর ২টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত পরপর ছয়টি ট্রেন ছেড়ে যায়। অথচ দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে ভোর ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ওই রুটগুলোতে আর কোনো ট্রেন ছেড়ে যায় না। ফলে ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী থেকে আসা উত্তরের ১৬ জেলার যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় পার্বতীপুর স্টেশনে। লালমনিরহাট থেকে পার্বতীপুরের উদ্দেশে একটি ট্রেন সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে, ডেমু দুপুর ১২টায় ও সর্বশেষ ট্রেনটি ছেড়ে আসে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে। সারাদিনেও আর কোনো ট্রেন নেই ওই রুটে। ফলে অফিস-আদালত ফেরত কোনো মানুষ ট্রেনে আসতে পারেন না।
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ছাত্র রাকিবুল ইসলাম বলেন, তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন। তার মত, যাদের বাসে চড়তে সমস্যা হয় তারাই একমাত্র ট্রেনে ভ্রমণ করছেন। পশ্চিম রেলের সিওপিএস মো. বেলাল হোসেন বলেন, এ মুহূর্তে তাদের করার কিছুই নেই। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরও নতুন কোচ এলে পার্বতীপুর-লালমনিরহাট রুটে একটি ট্রেন দেওয়ার চিন্তাভাবনা আছে। যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ট্রেনের সময়সূচি ও অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।