লিখনের ভবিষ্যৎ কী

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬      

সাদুল্যাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

১০ বছরের লিখন মিয়া একজন বাদাম বিক্রেতা। এই বয়সে ওর হাতে থাকার কথা বই-খাতা-কলম। কিন্তু সংসারের বোঝা কাঁধে চাপায় লিখনের হাতে উঠেছে বাদামের ডালা। গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের পুরান লক্ষ্মীপুর গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে লিখন মিয়াকে শিশু বয়সেই সংসারের হাল ধরতে হয়েছে।
লিখন জানায়, পরিবারে অভাবের কারণে ৮০ টাকা তহবিল নিয়ে বাদাম বিক্রির ব্যবসা শুরু করে সে। গোটা দিন বাদাম বিক্রি করলে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা লাভ হয়। এই টাকায় কোনো রকমে সংসার চলে। লিখনের মা লতিফা বেগম বলেন, তার স্বামী ঢাকায় আরেকটি বিয়ে করায় তাদের খোঁজ রাখেন না। এই অবস্থায় এক মেয়ে ও ছেলে নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। কী খাবেন, কী করবেন তার ইয়ত্তা নেই। তাই লিখনকে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে।
কামারপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল গণি সরকার বলেন, লিখন মিয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। তবে সুযোগ পেলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সাহায্য করবেন। সাদুল্যাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, সরকার শিশুদের বিনামূল্যে লেখাপড়ার পাশাপাশি উপবৃত্তি দিচ্ছে। তাই শিশুদের কাজে না লাগিয়ে বিদ্যালয়মুখী করতে সবারই সহযোগিতা প্রয়োজন।
সাদুল্যাপুর বণিক সমিতির সভাপতি শফিউল ইসলাম স্বপন বলেন, শিশু বাদাম বিক্রেতা লিখন মিয়ার কাছে টোল না নেওয়ার জন্য ইজারাদারকে বলা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আকতার আলম বলেন, এক ধরনের ট্র্যাজেডির শিকার হয়ে লিখন ব্যবসায় নেমেছে। ওর পরিবার সঠিক পথে থাকলে এই অবস্থা হতো না। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সবারই উচিত লিখনকে সাহায্য করা।