ভাসমান হাট

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬      

ফসিউল ইসলাম বাচ্চু, পিরোজপুর

পিরোজপুরে জমে উঠেছে ভাসমান চাঁই ও জালের হাট। বর্ষা মৌসুম চলে আসছে। এ সময় পিরোজপুরসহ উপকূলীয় এলাকায় দেশি প্রজাতির মাছের বিচরণ বাড়ে। মৌসুমের শুরু থেকেই নদী-নালা, খাল-বিলে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। এ সময় কৈ, শিং, মাগুর, বাইলা, চিংড়িসহ দেশি প্রজাতির মিঠা পানির মাছ শিকারে ব্যবহার করা হয় বাঁশের তৈরি বিশেষ ফাঁদ। মাছ শিকারের এ ফাঁদ বুচানা জাল বা বাঁশের চাঁই নামে পরিচিত। গ্রীষ্মের শুরু থেকে গ্রামাঞ্চলের খাল-বিল ও নদী-নালায় চাঁই দিয়ে মাছ ধরার ধুম পড়ে যায়। যা চলতে থাকে ভাদ্র-আশ্বিন ও কার্তিক মাস পর্যন্ত। জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ উপকূলের অন্যান্য উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে মাছ ধরার এই উপকরণটির বাজারজাত ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এসব এলাকার বাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার চাঁই বিক্রি হচ্ছে। জেলার মধ্যে পিরোজপুর সদর উপজেলায় রবি ও বুধবার, ভাণ্ডারিয়ায় সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবারসহ জেলার অন্যান্য উপজেলায় সপ্তাহের হাটের দিন বসে চাঁইয়ের বাজার। পিরোজপুর জেলা শহরের দামোদর ব্রিজসংলগ্ন খাল পাড়ে, ভাণ্ডারিয়া খেয়াঘাট সড়কের দু'ধারে বসে চাঁইয়ের হাট। এখানে গড়ে উঠছে চাঁই বেচাকেনার বিরাট বাজার। ভাণ্ডারিয়া পোনা নদী-তীরবর্তী দক্ষিণ বাজার, ভুবনেশ্বর খাল হচ্ছে এ অঞ্চলের চাঁইয়ের সবচেয়ে বড় মোকাম। এখান থেকে পাইকারি দরে চাঁই কিনে নিয়ে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে থাকেন। প্রকারভেদে চাঁই তৈরিতে খরচ হয় বাঁশ, সুতা, অন্যান্য উপকরণসহ ৬০ থেকে ২৫০ টাকা। তা বিক্রি হয় ৮০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত।