পাখি রক্ষায় গাছে হাঁড়ি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬      

মোকলেছুর রহমান, ধামরাই (ঢাকা)

বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখির বংশ বিস্তার এবং এগুলোকে ঝড়-বৃষ্টি থেকে রক্ষার্থে ধামরাই থানার ওসি থানা কমপ্লেক্সের ভেতর বরই, কড়ই, মেহগনি, পাকুড়সহ বিভিন্ন গাছের দুটি ডালে পাখির বাসা বাঁধার জন্য হাঁড়ি বসিয়ে দিয়েছেন। এমনভাবে বসানো হয়েছে, যাতে বৃষ্টি এলেও হাঁড়ির ভেতর বৃষ্টির পানি ঢুকতে না পারে। হাঁড়ির ভেতরে বৃষ্টির পানি গেলেও তা নিচে পড়ে যাবে ছোট ছোট ছিদ্র দিয়ে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে। ওসি মোহাম্মদ রিজাউল হক পাখির বাসা তৈরি জন্য প্রায় ৫০০ মাটির হাঁড়ি কিনেছেন। প্রতিটি হাঁড়ির মূল্য ২০ টাকা। বিশেষ কায়দায় তৈরি করা এসব হাঁড়িতে দুটি করে মুখ রয়েছে। যে মুখ দিয়ে পাখি অনায়াসে ভেতরে প্রবেশ এবং অপর মুখ দিয়ে বের হতে পারবে। সেখানে বাসা বেঁধে বংশ বিস্তারের জন্য ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা তুলতে পারবে। ইতিমধ্যে সেই হাঁড়িতে বুলবুলি, ঘুঘু, শালিক, দোয়েল, ঘড়িয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বাসা বেঁধেছে। ওসি এর আগেও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ, মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া থানায় দায়িত্ব পালনকালে সেখানেও একইভাবে পাখির জন্য গাছে-গাছে হাঁড়ি বসিয়েছিলেন। ওসির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. খোরশেদ আলম বলেন, এভাবে বিলুপ্ত পাখি রক্ষায় এগিয়ে এলে প্রাণিকুল রক্ষা পাবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা, খরা ও রোগের মহামারী কম হবে। পাখি মানুষের উচ্ছিষ্ট খাবার খেয়ে থাকে। এতে খাবার পচন থেকে রক্ষা করে। দুর্গন্ধ কম ছড়ায়। অনুপকারী কীটপতঙ্গ খেয়ে ফেলে। গাছের বংশবৃদ্ধিতেও পাখির ভূমিকা রয়েছে।