বিষুষ্ণসাগর

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬      

শফিউল্লাহ সরকার শফিক, মুক্তাগাছা

বিষুষ্ণসাগর। এটি কোনো সাগর বা নদীর নামনয়। এটি জমিদারদের রেখে যাওয়া বড় একটি পুকুরের নাম। এ পুকুরের এক প্রান্তে দাঁড়ালে অন্য প্রান্তের মানুষ চেনা যায় না। যদিও এখন পুকুরের চারপাশ ক্রমেই দখল হয়ে যাচ্ছে। পুকুরের সেই জৌলুস এখন আর নেই। তবুও আছে এর ঐতিহ্য। মুক্তাগাছা ছিল এক সময় জমিদারদের শহর। কালের বিবর্তনে জমিদারি প্রথা হারিয়ে গেলেও রয়ে গেছে তাদের বহু স্মৃতিচিহ্ন। তারই একটি বিষুষ্ণসাগর। এক সময় মুক্তাগাছা শহর ছিল খালে-বিলে ভরা। জমিদাররা এ শহরে ঢুকে খাল-বিল ভরাট করে শহরকে উঁচু নিবাসস্থলে পরিণত করেন। তবে শহরের সৌন্দর্য বিষুষ্ণ সাগরটি না ভরে এটি তারা সংরক্ষণ করেন। মূলত এটি ছিল ৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি বড় পুকুর। পরে জমিদার বিষুষ্ণরামের নামের সঙ্গে মিল রেখে পুকুরটির নামকরণ করা হয় বিষুষ্ণ সাগর। জমিদারদের হাতিগুলোকে এ পুকুরেই গোসল করানো হতো। জমিদারদের সন্তানদের আনন্দের জন্য এ পুকুরটিতে আয়োজন করা হতো নৌকা বাইচের। বিকেল হলেই তাদের সন্তানরা নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়াত এ পুকুরে। এ ছাড়া এ পুকুরকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে মুক্তাগাছা শহর। যে কারণে শহরটি গোলাকার। বর্তমানে ক্রমেই পুকুরটিকে চেপে ধরেছে দখলবাজরা। ঐতিহ্যবাহী এ পুকুরটিতে ঢোকার কোনো পথ খোলা নেই। সব পথই বন্ধ হয়ে গেছে দখলদারদের কারণে। পুকুরের চারপাশের পাড় দখল হয়ে গেছে অনেক আগেই। এখন চলছে পুকুরটি দখলের প্রতিযোগিতা। পুকুর দখল হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে মুক্তাগাছার ইউএনও জুলকারনায়নও বলেন, খবর নিয়ে পুকুরটি দখলমুক্ত করা উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।