ঝড় ও বজ্রপাতে সাত স্থানে নিহত ৯

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬      

সমকাল ডেস্ক

ঝড় ও বজ্রপাতে কক্সবাজারের উখিয়া, টেকনাফ ও চকরিয়া, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া, বরিশালের হিজলা, পটুয়াখালী ও বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঝড়ে পিরোজপুরের নাজিরপুর ও জিয়ানগরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
কক্সবাজার : কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের উত্তর রহমমের বিল গ্রামে বজ্রপাতে সিরাজদ্দৌলা (৩২) নামে এক চিংড়িচাষির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৮টার দিকে চিংড়ি ঘেরে কাজ করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। নিহত সিরাজদ্দৌলা একই গ্রামের মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে।
কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) :ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় মাত্র আধা ঘণ্টার ঝড়ে গাছপালা বসতঘর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভেঙে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ঝড়ের সময় বজ্রপাতে মারা গেছে লাকি বেগম নামের এক গৃহবধূ ও এক কৃষকের দুটি গরু। শনিবার সকাল ৯টায় হঠাৎ প্রচণ্ড বেগে ঝড় শুরু হয়, সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টি।
জিয়ানগর (পিরোজপুর) :জিয়ানগরে হঠাৎ ঝড়ে শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত, বিদ্যুৎ লাইন বিছিন্নসহ গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শনিবার সকালে কালবৈশাখীতে গাছ পড়ে উপজেলার কালাইয়া গ্রামের সাতটি, পত্তাশী এলাকায় ১০টি ও চরনী পত্তাশী এলাকায় ২০টি বাড়িসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়। এ সময় আল-আমিন, নিলুফাসহ চারজন আহত হয়েছেন। ঝড়ে পত্তাশী রহিম স্মৃতি দাখিল মাদ্রাসার টিনের চালা উড়ে গেছে। এ ছাড়া ঝড়ে বিভিন্ন প্রজাতির পাঁচ শতাধিক গাছপালা ও কলা ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাঁচটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে ও বিদ্যুৎ লাইনের ওপর গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) :বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ে শত শত ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান , গাছপালা বিধ্বস্ত হয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়েছে। ঝড়ের সময় বজ্রপাতে চিংড়াখালী ইউনিয়নের চণ্ডীপুর গ্রামের কৃষক আল আমিন খান (৩২) নিহত হয়েছেন। সকাল ৯টার দিকে অত্র উপজেলার বলইবুনিয়া, হোগলাবুনিয়া, চিংড়াখালী, বহরবুনিয়া, পুটিখালীসহ কয়েকটি ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।
পিরোজপুর :পিরোজপুরের নাজিরপুর ও জিয়ানগর উপজেলায় গতকাল শনিবার সকালে হঠাৎ টর্নেডোর আঘাতে শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এ সময় কয়েকশ' গাছপালা ভেঙে পড়ে। টর্নেডোর আঘাতে ঘরচাপা পড়ে পাঁচজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ করে সৃষ্টি হওয়া টর্নেডোর আঘাতে জিয়ানগর উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নের কালাইয়া, ভবানীপুর, চারাখালী, পত্তাশী ও চরণীপত্তাশী গ্রামে প্রায় অর্ধশত ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ঝড়ে ভেঙে গেছে ওই এলাকার কয়েক হাজার গাছ এবং উপরে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। ঘরচাপা পড়ে উপজেলার পত্তাসী এলাকায় আল-আমিন, নিলুফাসহ চারজন আহত হয়েছেন।
এদিকে নাজিরপুরে শনিবার সকালে পাঁচ মিনিটের টর্নেডো লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে দুটি গ্রাম। গ্রাম দুটি হলো নাজিরপুর উপজেলার চাঁদকাঠি ও ঠুটাখালী।
পটুয়াখালী :ঘূর্ণিঝড়ে পটুয়াখালীতে দুই নারী ও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পটুয়াখালীর ওপর দিয়ে প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়। এতে ঘরের ওপর গাছ চাপা পড়ে জেলার সদর উপজেলার ছোটবিঘাই ইউনিয়নের অফিসের হাট এলাকায় মিজানুর রহমানের স্ত্রী তানজিলা আক্তার এবং গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের ভাঙা এলাকায় মো. হারুন অর রশিদ হাওলাদারের স্ত্রী সেলিনা বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান।
বরিশাল :বরিশালের হিজলা উপজেলার খুন্না গোবিন্দপুর গ্রামে বজ্রপাতে আ. সোবাহান নামে এক ভ্রাম্যমাণ কাপড় বিক্রেতার (ফেরিওয়ালা) মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। নিহত সোবহান একই উপজেলা সদরের খুন্না গোবিন্দপুর গ্রামের সফুর আলী বেপারীর ছেলে।
চকরিয়া (কক্সবাজার) :কক্সবাজারের চকরিয়ায় দুইদিন ধরে অবিরাম বর্ষণে উপজেলার অপেক্ষাকৃত নিচু ইউনিয়নগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এদিকে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি মাতামুহুরী নদীতে হু হু করে বাড়ছে। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে বন্যা দেখা দেবে এখানে। এদিকে শনিবার সকালে বজ্রপাতে একজন মানুষ এবং একটি গবাদিপশু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
টেকনাফ (কক্সবাজার) টেকনাফ উপজেলায় বজ্রপাতে কামাল হোসেন (২২) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তি বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর গ্রামের রোহিঙ্গা বস্তির আমির হোসেনের ছেলে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে সমুদ্রসৈকত এলাকায় মশারি জাল নিয়ে মাছ শিকারের সময় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। লাশ উদ্ধার করে পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।