ফুটবল খেলা নিয়ে দ্বন্দ্ব

রানীনগরে সাত মাস সমাজচ্যুত ৪ পরিবার

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬      

নওগাঁ প্রতিনিধি ও রানীনগর সংবাদদাতা

রানীনগর উপজেলার ভেবরাগাড়ী গ্রামে ফুটবল খেলার টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সাত মাস ধরে একঘরে (সমাজচ্যুত) করে রাখা হয়েছে গ্রামের চারটি পরিবারকে। শুধু এক ঘরেই নয়, ওই পরিবারের পুরুষ লোকদের মসজিদে নামাজ পর্যন্ত পড়তে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। মাতবরের বাধা উপেক্ষা করে কয়েকজন মসজিদে তারাবিহ নামাজ পড়তে গেলে বাড়ির লোকদের মারধর, ভাংচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় নারী, শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন। আহত গৃহবধূ মোরশেদাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আবদুল জলিল বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ২০ জনের নাম উল্লেখসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। পুলিশ শুক্রবার সকালে আকরাম হোসেন নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে।
গত ডিসেম্বর মাসে বিজয় দিবস উপলক্ষে ভেবরাগাড়ি গ্রামে ফুঠবল খেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। খেলার টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে আবদুল জলিলের সঙ্গে একই গ্রামের গ্রাম্য মাতবর ফজের আলীর কথা কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে গ্রাম্য সালিশ ডাকা হয়। সালিশ বৈঠকে জলিল ও তার ভাইয়েরাসহ চার পরিবার উপস্থিত না হওয়ায় তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা না দিলে জলিল, আলাল, জালাল ও বেলাল হোসেনের পরিবারকে একঘরে (সমাজচ্যুত) করে রাখা হবে। প্রধান মাতবর ফজের আলী জানান, আমরা কাউকে একঘরে করিনি। জলিল বা বেলালকে নামাজ পড়তেও বারণ করিনি। মসজিদের ইমাম পছন্দ নয় বলে তারাই মসজিদে যায় না।
রানীনগর থানার ওসি আবদুল লতিফ খান জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।