ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজটে দুর্ভোগ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬      

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটারে যানজট এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই যানজট লেগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে অন্তত ৪-৫ ঘণ্টা দেরিতে গন্তব্যস্থলে পেঁৗছান উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার মানুষ। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার যাত্রীকে। এ অবস্থা চলতে থাকলে এবার ঈদে ঘরমুখো মানুষকে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
১৯৯৮ সালে যমুনা সেতু চালু হওয়ার প্রায় চার বছর পর দুই লেনের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলাচল শুরু হয়। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সেতুবন্ধন এ মহাসড়কে শুরু থেকেই বৃহত্তর উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ২২ জেলার গাড়ি চলাচল করে। বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন চলাচল করছে ২০ থেকে ২২ হাজার দূরপাল্লার বাস-ট্রাকসহ হালকা ও ভারী যান, যা মহাসড়কের ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি। এদিকে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মহাসড়কে নিষিদ্ধ যানবাহন যেমন_ অটো টেম্পো, রিকশা-ভ্যান ও ব্যাটারিচালিত রিকশার মতো ধীর গতি সম্পন্ন যানবাহনের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে ব্যাপক হারে। একাধিক অন্ধবাঁক, বেপোরোয়া গাড়ি চালনা, ট্রাফিক আইন অমান্যের মতো বিভিন্ন কারণে দুর্ঘটনাও ঘটছে ব্যপক হারে।
জয়দেবপুর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত চার লেন রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। চন্দ্রা, কালিয়াকৈর, গোড়াই, হাঁটুভাঙ্গা, মির্জাপুর, পাকুল্যা, নাটিয়াপাড়া, করটিয়া ও ঘারিন্দায় প্রতিদিনই যানজট লেগে থাকে। দুই পাশে রাস্তার কাজ চলায় মাটিবোঝাই বড় বড় ড্রাম ট্রাক আনলোড হচ্ছে। চার লেনের কাজ এবং নাসির গ্গ্নাস ইন্ডাস্ট্রিজে রাত-দিনই চলছে মাটি ফেলার কাজ। মহাসড়কের মধ্যে আড়াআড়ি করে বড় বড় ট্রাকগুলো মাটি ফেলছে। ফলে দুই পাশে তিন-চার কিলোমিটার যানজট লেগেই থাকছে। আবার দূরপাল্লার ট্রাকের চালকরা যানজট লাগলেই গাড়ি বন্ধ করে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, নিয়ম না মেনে গাড়ি চালানো যানজট লাগার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, যানজট নিরসনে পুলিশ সর্বদাই কাজ করে যাচ্ছে। চার লেনের কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ম মেনে মাটি ভরাটের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।