আজ হানাদারমুক্ত হয় যেসব এলাকা

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৬

সমকাল ডেস্ক

আজ ৬ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এ দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে পাকিস্তানি হানাদাররা কয়েকটি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। সেসব এলাকায় মুক্ত দিবস পালিত হচ্ছে আজ। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
মেহেরপুর : এ দিনে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানীখ্যাত মেহেরপুর পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা হামলায় একে একে ভেঙে পড়ে পাকিস্তানি হানাদারদের শক্তিশালী সামরিক বলয়। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে ৫ ডিসেম্বর রাত থেকে পাকিস্তানি বাহিনী গোপনে মেহেরপুর ছেড়ে পালাতে থাকে। ৬ ডিসেম্বর সকালে মিত্র বাহিনী মেহেরপুর শহরে প্রবেশ করলে অবরুদ্ধ জনতা মিত্র বাহিনীর সঙ্গে জয়ের উল্লাসে যোগ দেয়।
লালমনিরহাট : ১৯৭১ সালের এ দিনে মিত্র বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের যৌথ আক্রমণে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বিপর্যয়ের মুখে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তাদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে ৫ ডিসেম্বর গভীর রাতে লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, রাজাকার, আলবদর, আলসামস ও তাদের দোসর অবাঙালিরা দুটি স্পেশাল ট্রেনে রংপুর ও সৈয়দপুরে পালিয়ে যায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া :আখাউড়া মুক্ত দিবস আজ। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছিলেন সিপাহি বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের হাতে প্রাণ হারান মহিলা-শিশুসহ শ' শ' মুক্তিপাগল জনতা।
ছাগলনাইয়া (ফেনী) :আজকের এ দিনে ফেনী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্ত হয়। ফেনী মুক্ত দিবস উপলক্ষে ফেনী জেলার ৬ উপজেলায় নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ও পতাকা মিছিল, র‌্যালি, যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধা এবং ওই সময়ের কমান্ডারদের জেলা প্রশাসন কর্তৃক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) :১৯৭১ সালের এ দিনে মুক্তিযুদ্ধের ৩নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের সাঁড়াশি আক্রমণে ভীত-সন্ত্রস্ত পাকিস্তানি হানাদাররা পালিয়ে যায়। সেদিনই মুক্তিপাগল মানুষের উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে চুনারুঘাট। আনন্দে উদ্বেলিত মানুষের কাফেলায় অগ্রপথিক সানু মিয়া চৌধুরী, পিসি আ. ছামাদ ও আ. মন্নান সরকারের নেতৃত্বে উপজেলা ভবনের সামনে বিজয়ের প্রথম পতাকা উত্তোলিত হয় চুনারুঘাটে।
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) : মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে নাকাল হানাদাররা বড়লেখা ছাড়তে বাধ্য হয়। ৬ ডিসেম্বর ভোরে বড়লেখা সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হয়। পরে বর্তমান উপজেলা পরিষদের সামনে এক বিজয় সমাবেশ করা হয়।
কুড়িগ্রাম : ১৯৭১ সালের এ দিনে মুক্তিযোদ্ধারা কুড়িগ্রামকে হানাদারমুক্ত করেছিলেন। পাকিস্তানি বাহিনী সেদিন লেজ গুটিয়ে কুড়িগ্রাম শহর থেকে পিছু হটে ট্রেনে করে পালিয়ে গিয়েছিল তিস্তা নদীর পূর্বপাড়ে। এদিন বিকেল ৪টায় বিজয়ীর বেশে কোম্পানি কমান্ডার আবদুল হাই সরকার বীরপ্রতীকের নেতৃত্বে ৩৩৫ মুক্তিযোদ্ধা কুড়িগ্রাম শহরে প্রথম প্রবেশ করেছিলেন।
কলারোয়া (সাতক্ষীরা) : একাত্তরের আগুনঝরা এ দিনে সাতক্ষীরার কলারোয়া পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয়। স্বাধীন দেশের পতাকা ওড়ে কলারোয়ার আকাশে।
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) : মুক্তিকামী দামাল ছেলেদের আপ্রাণ প্রচেষ্টায় রাজারহাট হানাদার মুক্ত হয়। ওইদিন দুপুর ১২টায় রাজারহাট রেলস্টেশনের সনি্নকটে স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়িয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা রাজারহাট মুক্ত ঘোষণা করেন।
পীরগঞ্জ (রংপুর) : উপজেলার ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে আজকের এ দিনটি। শত্রুমুক্ত হয় ৫ ডিসেম্বর গভীর রাতে।
এছাড়া যশোর জেলা, সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা হানাদারমুক্ত হয়।