নার্সারিতে মোমিনুরের ভাগ্যবদল

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০১৭

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

স্কুলজীবনে বাড়ির আঙিনায় শখের বশে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে নানা প্রজাতির ফুলের চারা এনে লাগাতেন মোমিনুর রহমান। শখ করেই বাড়ির আঙিনা ফুল গাছে ভরে তোলেন তিনি। এক সময় তার কাছ থেকেই অন্যরা ফুল গাছের চারা কিনে নিয়ে যেতে শুরু করে। এ থেকেই শুরু তার নার্সারি করার স্বপ্ন। মোমিনুর রহমানের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের ফয়জুল্যাপুর গ্রামে। তিনি মো. আফছার আলী সরদারের ছেলে।
২০০৫ সালে এসএসসি পাস করেন মোমিনুর। স্কুলে পড়াশোনা চলাকালে ২টি খাসি কিনে লালন-পালন শেষে এসএসসি পরীক্ষার পর ৯ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। অভাবের সংসার হওয়ায় লেখাপড়ার দিকে আর না ঝুঁকে প্রতিবেশির কাছ থেকে ১০ কাঠা জমি লিজ নিয়ে স্বল্প পরিসরে ওই ৯ হাজার টাকায় ফুলের নার্সারি বাগান শুরু করেন। সেই থেকে তার পথচলা শুরু। তাকে আর পেছনে ফিরতে হয়নি। এখন তিনি একটি বড় নার্সারি বাগানের মালিক। মোমিনুর তার চারা উৎপাদনকারী বাগানের নাম দিয়েছেন বিসমিল্লাহ নার্সারি। বর্তমানে ৭ বিঘা জমিজুড়ে বিশাল নার্সারি গড়ে তুলেছেন তিনি। অন্যের কাছ থেকে বিঘাপ্রতি ১৪ হাজার টাকায় জমি লিজ নিয়ে এই নার্সারি বাগান চালিয়ে যাচ্ছেন। মোমিনুরের নার্সারিতে ৫-৬ জন শ্রমিক কাজ করেন। বাড়ির পাশেই এই নার্সারিতে মোমিনুর নিজে দেখাশোনা ও পরিচর্যার কাজ করে থাকেন। তার নার্সারিতে রয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ, ঔষধি ও ফুলের চারা। ফলদ চারার মধ্যে রয়েছে আম, জাম, কাঁঠাল, কমলা, মাল্টা, থাই জাম্বুরা, বেদানা, লিচু, ডালিম, থাই পেয়ারা, হাইব্রিড আতা, গ্রিন ড্রপ, রেড জামরুল প্রভৃতি। ঔষধি গাছের মধ্যে রয়েছে ঘৃতকুমারী (এলোভেরা), জাতি ফুল, ভুঁই কুমড়া, ডায়াবেটিস, চন্দন ইত্যাদি। বনজ গাছের মধ্যে লম্বু, মেহগনি, উইপিন, দেবদারু, চটকা, শিশু, ফাই বট, বনছায়া বট, ইউক্যালেকটার উল্লেখযোগ্য।