দৃষ্টিনন্দন চিনি মসজিদ

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৭      

সাকির হোসেন বাদল, সৈয়দপুর (নীলফামারী)


তৎকালীন ভারতবর্ষে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে অনেক পীর, আউলিয়া ও বুজুর্গের আগমন ঘটেছিল। তাদের উৎসাহ, অনুপ্রেরণায় মুসলমান শাসক ও মোগল আমলে অসংখ্য মসজিদ স্থাপিত হয় এই উপমহাদেশে। নীলফামারীর সৈয়দপুরের চিনি মসজিদ সেই ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতীক।
এই মসজিদের নির্মাণশৈলী ও সৌন্দর্য সবার নজর কাড়ে। প্রাচীন এ মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মানুষ এখানে আসেন। সৈয়দপুর শহরের উত্তরে ইসলামবাগ এলাকায় ১৮৬৩ সালে চিনি মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথম দিকে এটি দোচালা ছোট একটি টিনের ঘর ছিল। পরে ১৯২০ সালে হাজি হাফিজ আবদুল করিমের উদ্যোগে ৩৯ ফুট বাই ৪০ ফুট আয়তন বিশিষ্ট মসজিদটির প্রথম অংশ পাকা করা হয়।
হাজি আবদুল করিম নিজেই মসজিদটির নকশা এঁকেছিলেন। পুনরায় ১৯৬৫ সালে মসজিদের দক্ষিণ দিকে ২৫ বাই ৪০ ফুট আয়তন বিশিষ্ট দ্বিতীয় অংশ পাকা করা হয়। এই চিনি মসজিদের পুরো ভবন রঙিন উজ্জ্বল চীনা মাটির পাথরের টুকরো দিয়ে আবৃত। এ জন্য এ মসজিদটি এলাকায় চিনি মসজিদ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।
১৯৬৫ সালে বগুড়ার একটি জ্ঞ্নাস ফ্যাক্টরি চিনি মসজিদের জন্য প্রায় ২৫ টনের মতো চীনা মাটির পাথর দান করে। এছাড়া সেই সময় কলকাতা থেকেও ২৪৩টি শঙ্কর মর্মর পাথর এনে লাগানো হয় এই মসজিদে। এ চিনি মসজিদে ৪৫টি মিনারসহ ৩টি বড় গম্বুজ রয়েছে।
মসজিদে প্রবেশের জন্য উত্তরে ও দক্ষিণে একটি করে দরজা রয়েছে। মসজিদের দোতলায় একটি ভবনসহ পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে।
বর্তমানে সৈয়দপুর চিনি মসজিদে স্থান সংকুলানের অভাবসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে। মসজিদটির ডানে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বামে একটি ইমামবারা রয়েছে। এর পশ্চিমে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কবরস্থান। মসজিদের নিজস্ব সম্পত্তি বলতে রয়েছে দক্ষিণে মসজিদের গাঁ ঘেঁষে ১২টির মতো দোকানঘর। এসব দোকানের ভাড়া ও মুসল্লিদের চাঁদা মসজিদের আয়ের একমাত্র উৎস। যার ওপর নির্ভর করে মসজিদের সকল ব্যয় ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চলে। তাই সৈয়দপুর শহরের অতীত ইতিহাসের প্রতীক 'চিনি মসজিদ'-এর সংস্কার ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য সরকারি সাহায্য প্রয়োজন। মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান জানান, মসজিদটি ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে দুইবার সংস্কার করা হয়েছে। মসজিদের মিনার ও গম্বুজ অর্থের অভাবে সংস্কার করা যাচ্ছে না।