খেয়াঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায়, জিম্মি যাত্রীরা

গলাচিপা

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০১৮      

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আমখোলা খেয়াঘাটে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত টোল আদায় করা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত জনপ্রতি ছয় টাকার পরিবর্তে টোল আদায় করা হচ্ছে ১০ টাকা করে। রাত হলে দুই পারের মানুষকে জিম্মি করে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করে ইজারাদার। খেয়াঘাটে টোল আদায়ের চার্ট টানানোর নিয়ম থাকলেও কোথাও তা নেই। প্রতিবাদ করলে ইজারাদারের লোকজনের হাতে লাঞ্ছিত হতে হয় সাধারণ মানুষকে। দীর্ঘদিন ধরে ইজারাদার এমন অনিয়ম করে এলেও দেখার যেন কেউ নেই।

জানা গেছে, বাংলা ১৪২৪ সালের জন্য জুয়েল আহমেদ ৪ লাখ ৪১ হাজার টাকায় আমখোলা খেয়াঘাটের ইজারা নেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জনপ্রতি ৬ টাকা, মোটরসাইকেল ১৫ টাকা, বাইসাইকেল ৫ টাকা করে খেয়াঘাটসহ নৌকায় পারাপারের কথা রয়েছে। এ টোল চার্ট প্রতিটি খেয়াঘাটের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু গলাচিপার আমখোলা খেয়াঘাটে টোল চার্ট টানানো নেই। আমখোলার জুয়েল ঘাট ইজারা নেওয়ার পরই সরকারি এ নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে জনপ্রতি ছয় টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা করে টোল আদায় করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। আর বিশেষ দিবস, মেলা ও ঈদে সময় জনপ্রতি ২০ টাকা করে আদায় করে। মোটরসাইকেল পারাপারে ১৫ টাকার কথা থাকলেও আদায় করা হচ্ছে ২৫ টাকা করে। বাইসাইকেলে ৫ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা করে আদায় করে। হাতের মালপত্রের জন্যও অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। ইচাদীর ব্যবসায়ী রুহুল আমিন জানান, আমখোলা খেয়াঘাট জুয়েল ইজারা নেওয়ার পরই খেয়াঘাটের পরিবেশ নষ্ট করে ফেলেছে। তিনি বলেন, টোল আদায়ের জন্য বেশির ভাগ সময় বসেন জুয়েলের ভাই জাফর। অতিরিক্ত টোল আদায়ের ব্যাপারে কেউ প্রতিবাদ করলে লাঞ্ছিত হতে হয় জুয়েল-জাফরের লোকজনের হাতে।

পানখালীর সাবেক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, এক লোক অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ করলে জুয়েল ও তার সাঙ্গোপাঙ্গ আমার সামনে তাকে অপমান করে। এর প্রতিবাদ করলে আমার সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করে। পরে চাঁদাবাজির মামলা করার হুমকি দেয়। এ ব্যাপারে আমখোলা খেয়াঘাটের টোল আদায়কারী জাফর বলেন, বেশি টাকায় ইজারা নিয়েছি। এ ছাড়া প্রশাসন থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ করতে হয়, তাই অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছি। সবাই জানে আমরা বেশি টাকা নেই, এর কম নিলে লোকসান হবে। আর দৃশ্যমান স্থানে টোল চার্ট টানানোর প্রয়োজনীয়তা নেই বলে জানান ইজারাদার জুয়েল। এ ব্যাপারে গলাচিপা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তৌসিফ আহমেদ জানান, গলাচিপার প্রায় সব খেয়াঘাটেই অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমরা খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।