দরিদ্রদের জন্য প্রকল্পে লুটপাটের অভিযোগ

চরভদ্রাসন

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০১৮      

ফরিদপুর অফিস ও চরভদ্রাসন প্রতিনিধি

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় অতিদরিদ্রদের জন্য প্রকল্প বরাদ্দের টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ না করেই আবার কোনো কোনো জায়গায় নামমাত্র কাজ করে সরকারি অর্থ ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, চরভদ্রাসন উপজেলার মধু ফকিরের ডাঙ্গি ও অমরাপুরে দুটি ৪০ দিনের কর্মসূচির নামে জলমহালের প্রকল্পের অগ্রিম কাজ করে রাখা হয়েছে। উপজেলার গাজীরটেক ও চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের সব প্রকল্পের কাজ না করেই প্রকল্পের কর্তা ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে মজুরির টাকা উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে গাজীরটেক ইউনিয়নের প্রকল্পে অনিয়ম সবচেয়ে বেশি। প্রকল্পের কাজে হতদরিদ্র ও অবহেলিতদের জায়গায় অনেক সচ্ছল ব্যক্তি এই প্রকল্পে নামমাত্র শ্রমিক সেজে সরকারি টাকা লুটপাট করছেন। এতে প্রকল্পের কর্তা ব্যক্তিদের হাত রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। জানা গেছে, নামে-বেনামে ভুয়া উপকারভোগী দেখিয়ে প্রকল্পের অর্থ চেয়ারম্যানদের লোকজন ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আত্মীয়-স্বজনদের নাম বসিয়ে কাজ না করেই টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজের তালিকাভুক্ত শ্রমিকদের এক-তৃতীয়াংশ শ্রমিক কাজে উপস্থিত না থাকলেও তাদের মজুরির টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার যোগসাজশে চেয়ারম্যানরা সরকারি অর্থ লুটপাট করছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ধরা পড়লেও প্রশাসন কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

মধু ফকিরেরডাঙ্গি প্রকল্পের শ্রমিক সরদার (সুপারভাইজার) হালিম ফকির জানান, অনুপস্থিত শ্রমিকরা প্রকল্পের কাজ না করে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে। গাজীরটেক ইউনিয়নের ওই প্রকল্পের পিআইসি আব্দুর রব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার প্রকল্পে কোনো অনিয়ম নেই। ৭৫ জন শ্রমিকের সবাই কাজ করে টাকা উত্তোলন করে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মানস বোস বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, যেসব শ্রমিক অনুপস্থিত থাকেন তাদের বেতন কেটে রাখা হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আহসানুল হক মামুন ইউএনও কামরুন নাহারকে সরকারি অর্থ লুটপাট ও প্রকল্পের অন্যান্য বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে লিখিতভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুন নাহার বলন, প্রকল্পের ধরন অনুযায়ী শ্রমিকদের নামের তালিকা ছোট-বড় হয়ে থাকে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে যেসব স্থানে প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে গিয়েছি, কোনো প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে শেষ করা হয়নি। তিনি বলেন, বাস্তবে শ্রমিকদের মজুরির দাম সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত মজুরির চেয়ে বেশি। শ্রমিকদের উপস্থিতির হার কমার এটাও একটা অন্যতম কারণ।