ফুলবাড়িয়ায় ৮ মাসেও কলেজছাত্র হত্যারহস্য উদ্ঘাটন হয়নি

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০১৮      

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

বিছানার একপাশে প্রিয় সন্তানের জামা জড়িয়ে রোজ সকাল-সন্ধ্যা কাঁদতে কাঁদতে পাগলপ্রায় মা লাইলী বেগম। শুক্রবার সকালে কুশমাইল ইউনিয়নের বরুকা তালতলা বাজারে ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণি পড়ূয়া একমাত্র সন্তানহারা মা। তার মুখে শুধু একটাই বুলি, 'তোমরা আমার কলিজার টুকরারে যারা মাইরা ফেলাইছে তাগর বিচার যেন আল্লায় করে।' ফুলবাড়িয়া উপজেলার কুশমাইল ইউনিয়নের বরুকা টানপাড়া গ্রামের মেধাবী ছাত্র আফজাল হোসেন তাজু হত্যাকাণ্ডের প্রায় আট মাস পেরিয়ে গেলেও হত্যারহস্য উদ্ঘাটন হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের মা লাইলী বেগম বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল একই গ্রামের নজরুল ইসলাম গংয়ের সঙ্গে। হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে আমার ছেলের মৎস্য খামারের দুই লাখ টাকার মাছ মেরে নিয়ে যায়, কাঁঠাল গাছ কেটে ফেলে বাড়িতে এসে হত্যার হুমকি দেয় আফজালকে। এ ঘটনার তিন দিন পর গত ১৬ আগস্ট রাতে কলেজছাত্র তাজুর সঙ্গে মা খাবার খেয়ে ঘরে যান। কিছুক্ষণ পর দু'জন এসে ছেলে আফজালকে ডেকে নিয়ে বাইরে চলে যায়। পরদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখেন আফজাল বিছানায় নেই, তার ঘরের দরজা খোলা। ১৮ আগস্ট বাড়ির পাশের পুকুরে পাওয়া যায় আফজালের লাশ।

১৯ আগস্ট মা লাইলী বেগম বাদী হয়ে নজরুল ইসলামসহ ১১ জনকে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন-চারজনকে আসামি করে ফুলবাড়িয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী জানান, ফুলবাড়িয়া থানায় হত্যা মামলার দুই মাস যেতে না যেতেই রহস্যজনক কারণে মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করে ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে সাবেক ইউপি সদস্য সুরুজ্জামানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।