তিন লাখ মানুষের সেবায় দু'জন চিকিৎসক

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০১৮      

খলিলুর রহমান শেখ, নেত্রকোনা

দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট। এখানে কাগজপত্রে ছয়জন চিকিৎসক থাকলেও বাস্তবে আছেন মাত্র দু'জন। তার মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে (ইউএইচও) বেশিরভাগ সময় প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। মূলত একজন মেডিকেল অফিসার তিন লাখ লোকের চিকিৎসা দিচ্ছেন। তিনি হলেন ডা. মুহাম্মদ বিলাল উদ্দিন। এতে করে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এলাকার রোগী সরকারি চিকিৎসাসেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

দুর্গাপুর পৌর সভার সাত ইউনিয়নে প্রায় তিন লাখ লোকের বসবাস। এই বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর জন্য রয়েছে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ২০০৯ সালের ১৭ জুলাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরপর প্রায় ৯ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও এ পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে পুরোপুরি চিকিৎসা কার্যক্রম চালু করা যায়নি।

চিকিৎসক ও নার্স সংকট লেগেই আছে। অপারেশন থিয়েটার (ওটি) থাকলেও লোকবলের অভাবে আজও সেটি চালু করা সম্ভব হয়নি। আর কিছুদিন এভাবে থাকলে যন্ত্রপাতিগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জরুরিভিত্তিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে চিকিৎসাসেবার মান বৃদ্ধি করার জন্য সরকারের কাছে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর। ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ১৭ চিকিৎসকের পদ রয়েছে। পোস্টিং দেখানো হচ্ছে ছয় চিকিৎসকের। ১১টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ দু'জন কাজ করে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নার্সের পদ রয়েছে ২৪ জনের, এর মধ্যে কর্মরত আছেন ১৯ জন। পাঁচজনের মঞ্জুরিকৃত পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। সিনিয়র নার্সরা ইনডোর আউটডোরে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল অফিসার, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, গাইনি, শিশু, চক্ষু, কার্ডিও, ইএনটি, চর্ম- যৌন, মেডিসিন, সার্জারি, অ্যানেসথেসিয়া, অর্থোপেডিকস সার্জারি, ইএমও, আইএমও, প্যাথলজিস্ট ডেন্টাল সার্জনসহ বিভিন্ন পদে চিকিৎসক নেই দীর্ঘদিন। ইউনিয়ন পর্যায়ের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর অবস্থাও খুব খারাপ। স্বাস্থ্য সহকারী দিয়ে কোনোরকমে চালানো হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন দুর্গাপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি নির্মলেন্দু সরকার বাবুল বলেন, কোনো ধরনের জটিল রোগ দেখা দিলে রোগী নিয়ে বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সড়কপথে কোনো জায়গা পাওয়া যায় না। তখন বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে করে এলাকার গরিব রোগীরা সরকারি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে বরাবরই।

দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন খান বলেন, কাগজপত্রে ছয়জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। এর মধ্যে দু'জন প্রেষণে ও দু'জন প্রশিক্ষণে আছেন। এতে করে বলা যায়, একজন চিকিৎসক দিয়েই চালানো হচ্ছে উপজেলার বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। আমাকে সার্বক্ষণিক প্রশাসনিক কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। এর পরও যতদূর সম্ভব রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি।

নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডা. মো. তাজুল ইসলাম খান চিকিৎসক সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। এই অবস্থা শুধু দুর্গাপুরেই নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একই অবস্থা।