পাঁচ বছরেও ভাঙা সেতু মেরামতের উদ্যোগ নেই

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০১৮      

জিয়াউল হাসান পলাশ, ঝালকাঠি

পাঁচ বছরেও ভাঙা সেতু মেরামতের উদ্যোগ নেই

ঝালকাঠির গাভারামচন্দ্রপুর ও বিনয়কাঠি ইউনিয়নের সংযোগ সড়কে ভেঙে পড়া সেতু - সমকাল

ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাভারামচন্দ্রপুর ও বিনয়কাঠি ইউনিয়নের সংযোগ সড়কের পূর্ব আশিয়ার গ্রামের ব্রিজটি প্রায় ৫ বছর আগে ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে দুর্ভোগে রয়েছে দুই ইউনিয়নের ৬ গ্রামের শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয়রা দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে। ব্রিজটি ভালো না থাকায় কয়েক মিনিটের পথ কয়েক মাইল ঘুরে হেঁটে যাতায়াত করতে হচ্ছে। যানবাহনের অভাবে এলাকার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৮ সালে এলজিইডির আওতায় প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে সদর উপজেলার গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বালিঘোনা ও বিনয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব আশিয়ার গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া কালিজিরা নদীর ওপরে এ ব্রিজটি নির্মিত হলে দুই ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতে সুবিধা হয়। কিন্তু এটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ না নেওয়ায় এলাকার মানুষের যাতায়াতে অসুবিধা হচ্ছে। প্রায় ১ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হয় এলাকাবাসীকে।

মাদকসেবীরা ব্রিজের খুঁটির অ্যাঙ্গেল চুরি করে নিয়ে যাওয়ায় ৫ বছর আগে এটি আকস্মিক ভেঙে পড়ে। ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিনয়কাঠি ইউনিয়নের আশিয়ার ও মুড়াশাতা এবং গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বালিঘোনাসহ ৫-৬টি গ্রামের মানুষ এ ব্রিজের অভাবে সড়কপথে যাতায়াত করতে পারছে না। সময়মতো স্কুল ও কলেজে যেতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটছে।

মুড়াশাতা গ্রামের বাসিন্দা সুলতান হোসেন বলেন, ব্রিজটা ভালো থাকলে অনেক কম সময়ে মোটরসাইকেলে জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে সুবিধা হতো।

গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা মাসুম শেরওয়ানী বলেন, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার কারণে গাভারামচন্দ্রপুর ও বিনয়কাঠি ইউনিয়নের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণ করা প্রয়োজন। ওই দুই ইউনিয়নের মানুষ এ সমস্যা সমাধানে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপির হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

বিনয়কাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, ব্রিজটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত এটি নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করব। ঝালকাঠি সদর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আ. ছত্তার হাওলাদার বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রকল্পে ব্রিজটি অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছি।