বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন কুয়াকাটার ৫০টি গ্রামের জেলেদের মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী দাদন ব্যবসায়ী ও মহাজন। মহাজনের দাদনের টাকা নেওয়া বাবদ কমিশন ও আড়তদারি মারফত শতকরা কমিশনে রাতারাতি টাকার পাহাড় গড়ছে তারা। কলাপাড়া উপজেলা ট্রলার মাঝি সমিতির সভাপতি নুরু মাঝি জানান, হিসাব-নিকাশ না জানা জেলেরা সহজ-সরল হওয়ায় মহাজন ও দাদন ব্যবসায়ীরা তাদের অনেককেই ঠকায়। তিনি জানান, বঙ্গোপসাগরের উত্তাল বুকে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েই প্রতিনিয়ত ইলিশ শিকারে যায় তারা। আহরণ করা ইলিশ মহাজনের দাদন নেওয়া আড়তদারের কাছে বিক্রি করতে জেলেরা বাধ্য। শতকরা ৭-৮ টাকা দাদনের কমিশন এবং ২ টাকা আড়তদারি রাখার পর ট্রলার মালিককে টাকা বুঝিয়ে দেয় আড়তদার। তারপর পুনরায় হিসাব হয় মালিক ও জেলেদের সঙ্গে। বাজার খরচের টাকা বাদ দিয়ে ট্রলার ও জাল-সুতা সরবরাহের জন্য ১০ ভাগ পায় মহাজন, বাকি ৬ ভাগ জেলেদের মাঝে আনুপাতিক হারে বণ্টন হয়।

দাদন ব্যবসায় ঝুঁকি কম, রাতারাতি টাকার পাহাড় গড়া সম্ভব- এমনটা ভেবেই কুয়াকাটা, আলীপুর, মহিপুর, চাপলী, ধুলাসার, গঙ্গামতি, ধানখালী, বানাতি কাউয়ারচরসহ উপকূলীয় এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে।

দাদনমুক্ত জেলে ব্যবসায় নিশ্চিতের লক্ষ্যে সিডর-পরবর্তী জেলে পুনর্বাসনের আওতায় সেনাবাহিনীর গঠিত আশার আলো সমিতির কার্যক্রমও ওইসব দাপুটে দাদন ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে বন্ধ রয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষুদ্র জেলে সমিতির নেতা নিজাম শেখ। নিজাম শেখের মতে, এখানকার ক্ষুদ্র জেলেরা একজনও দাদনমুক্ত নয়। আহরণ করা ইলিশের ন্যায্যমূল্য দেয় না দাদন ব্যবসায়ী নামের আড়তদাররা।

কুয়াকাটা খানাবাদ কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শাহাবুদ্দিন হাওলাদার বলেন, এখানকার জেলেদের সঙ্গে পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসের সম্পূর্ণই মিল রয়েছে। তবে জেলেদের সমুদ্রে গমন, ইলিশ শিকার ও সমুদ্র থেকে কিনারে ফেরার বিষয়টি প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম হিসেবে মানতে হয়। বাকি সবকিছুই জেলেদের মানতে হয় দাদন ব্যবসায়ী ও মহাজনের নির্দেশ অনুযায়ী।

মন্তব্য করুন