যশোরের কেশবপুরে চলতি বছরের ৬ মাসে ২৯২ জনকে কুকুরে কামড়ের ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত দল শনিবার সকালে কেশবপুরে আসে। তদন্ত দল অতি সম্প্রতি কুকুরের কামড়ে গুরুতর আহতদের সঙ্গে কথা বলে এবং স্থানীয় সুধীজন ও প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করে। এ সময় তারা কেশবপুরে জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, গত ৩০ জুন ১ দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৫ জনসহ চলতি বছরের ছয় মাসে ২৯২ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্স থেকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সব রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তদারক করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সমকালসহ পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ডা. ইকরামুল হক, ডা. ফজলে রাব্বী ও ডা. নিজামুল ইসলাম শনিবার সকালে কেশবপুরে আসেন। তদন্ত দল বিভিন্ন গ্রামে সম্প্রতি কুকুরের কামড়ে গুরুতর আহতদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অবস্থা, প্রদত্ত চিকিৎসা সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় সুধীজন ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করে। এ সময় তদন্ত টিমের প্রধান ডা. ইকরামুল হক বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ পত্রিকার খবরের ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত করার জন্য রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখাকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী এ তদন্ত দল কেশবপুরে এসেছে। তিনি বলেন, কেশবপুরে প্রচুর হনুমান ও কুকুর থাকার কারণে এখানকার জনগোষ্ঠী ঘাতকব্যাধি জলাতঙ্ক রোগের ঝুঁকিতে বসবাস করছে। এমতাবস্থায় এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে সরকারিভাবে ভ্যাকসিন সরবরাহ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে আগামী দিনে মাসিক চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত ভ্যাকসিন সরবরাহের চেষ্টা করবে। স্থানীয় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হবে। মতবিনিময়ের সময় উপস্থিত ছিলেন যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ রায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শেখ আবু শাহিন, কেশবপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আশরাফ-উজ-জামান খান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসাইন, সাংবাদিক কে এম কবির হোসেন প্রমুখ।

মন্তব্য করুন