মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রাম হত্যা মামলার জেরে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। ৩ জুলাই বিশ্বকাপ খেলা দেখা নিয়ে রাজতলা গ্রামের লোকজনের সঙ্গে নোয়াগাঁওয়ের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। এতে ৫ জন আহত হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজতলা গ্রামের সাইদুর রহমান ৪ জুলাই মারা যান। এ ব্যাপারে নিহতের ছেলে ছোটন খান বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে ৬ জুলাই থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

এ ঘটনার পর নোয়াগাঁও গ্রামের আসামি পক্ষের অর্ধশতাধিক পরিবার বাড়িঘরে বৃদ্ধ নারীদের রেখে সপরিবারে গৃহত্যাগ করে। এতে গ্রামটি পুরুষশূন্য হয়ে যাওয়ায় বসবাসকারীরা সব সময় আতঙ্কের মধ্যে দিন যাপন করছেন। বিশেষ করে বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলোতে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলায় আসামি পক্ষের শিক্ষার্থীরা ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় নোয়াগাঁও দাখিল মাদ্রাসার শতাধিক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে বলে সুপার এজহারুল হক খান নিশ্চিত করেছেন। অপরদিকে নোয়াগাঁও আফতাব হোসেন একাডেমিতেও শতাধিক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়। শনিবার ৮ ছেলের মধ্যে ৭ জনই আসামির মা বৃদ্ধ শেখ সুলতানা জানান, সাইদুর রহমানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। যার কারণে গ্রামের আসামি পক্ষের লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। পুলিশের সহযোগিতা পাওয়ায় এখন পর্যন্ত আমরা ভালো আছি। তবে এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আসামি পক্ষের লোকজন বাড়িঘর থেকে মালপত্র সরিয়ে ফেলার সময় বাদী পক্ষের লোকজন অর্ধশতাধিক গরু ছিনতাই করে নিয়ে গেছে বলে শুনেছি।

নোয়াগাঁও দাখিল মাদ্রাসার সুপার এজহারুল ও নোয়াগাঁও আফতাব হোসেন একাডেমির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আয়েশা আক্তার জানান, পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটায় পরীক্ষার্থীর উপস্থিতি কমেছে।

ওসি মো. শওকত আলী জানান, ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। তবে বর্তমানে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

মন্তব্য করুন