কাঁঠালের মৌসুম। দেশের প্রতিটি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে মজার ফল কাঁঠাল। দামও তেমন না, ক্রয়ক্ষমতার ভেতরেই পাওয়া যাচ্ছে জাতীয় ফল কাঁঠাল। মুক্তাগাছার রসুলপুর ও মধুপুর বনাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে উৎপাদিত হচ্ছে কাঁঠাল। আর উৎপাদিত এসব কাঁঠাল যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। এখন প্রতিদিন শতাধিক কাঁঠাল ভর্তি ট্রাক যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দুই পাশে মুক্তাগাছার রসুলপুর ও মধুপুরের জলছত্র এলাকায় চোখে পড়বে সারি সারি ট্রাকে ভরা হচ্ছে কাঁঠাল।

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার রসুলপুর ও টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চল বিশাল এলাকা নিয়ে গঠিত। বিস্তৃত এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে লেবু আর আনারসের বাগান। আর ওই বাগানের ফাঁকে ফাঁকে গড়ে তোলা হয়েছে কাঁঠালবাগান। মধুপুর ও রসুলপুরের বনের ভেতরে ঢুকলেই চোখে সারি সারি কাঁঠালের বাগান। আর দুটি বনের বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে কয়েকটি গ্রাম। আর এসব গ্রামের বাড়ি বাড়ি রয়েছে কাঁঠালের বাগান।

এসব অঞ্চলের এমন কোনো বাড়ি নেই যে বাড়িতে ২০ থেকে ৩০টি কাঁঠালগাছ নেই। বাড়ির আঙিনায় ও পুকুরের চারপাশে লাগানো হয়েছে কাঁঠালগাছ। এভাবেই মুক্তাগাছা ও মধুপুর বনের চারপাশে প্রায় ২০টি গ্রামে কাঁঠাল বাগান গড়ে উঠেছে। প্রতিটি গাছে ৩০ থেকে ৫০টি পর্যন্ত কাঁঠাল ধরছে। মৌসুম এলেই প্রতি বাড়ি থেকে ভ্যানে কাঁঠাল তোলা হয় বাজারে। মুক্তাগাছার রসুলপুর বাজার ও মধুপুরের কাকরাইদ এবং জলছত্র বাজারে ভ্যানে তোলা হয় কাঁঠাল। সকাল থেকেই গ্রামের কৃষকরা ভ্যানে কাঁঠাল বাজারে আনতে শুরু করেন। আর এসব বাজারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসছেন কাঁঠালের পাইকাররা। ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দু'পাশে মুক্তাগাছার রসুলপুর ও মধুপুরের জলছত্র এলাকায় চোখে পড়বে সারি সারি করে ট্রাকে ভরা হচ্ছে কাঁঠাল। আর বাজারে বাজারে স্তূপ করা রাখা হয়েছে কাঁঠাল। এবার কাঁঠালের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু সঠিক দাম না পাওয়ায় কাঁঠাল আবাদ করে তারা খুশি হতে পারছেন না। বাজারে প্রচুর কাঁঠাল ওঠায় কাঁঠালের দাম খুব কম। পাইকাররা প্রতিটি কাঁঠাল কিনে নিচ্ছেন ১০ থেকে ১৫ টাকায়।

মুক্তাগাছার রসুলপুর বনাঞ্চল-ঘেঁষা রাজাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন বাদশা বলেন, তাদের গ্রামের বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে কাঁঠালের বাগান। প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে কাঁঠালের বাগান। কিন্তু এ বছর কাঁঠালের দাম না পাওয়ায় চাষিরা তা বিক্রি করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। তাদের কাঁঠাল বাগানেই নষ্ট হচ্ছে।

মুক্তাগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নারগিছ আক্তার বলেন, ধানের পাশাপাশি বিশাল মুনাফা অর্জন করা যায় কাঁঠাল চাষ করে। এ জন্য চাষিদের তেমন একটা পরিশ্রম করতে হয় না। প্রত্যক কৃষকই তাদের বাড়ির আঙিনায় কাঁঠাল আবাদ করতে পারেন। এ ছাড়া কাঁঠাল একটি পুষ্টি জাতীয় ফল। তিনি বলেন, কাঁঠাল বাগান করতে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

মন্তব্য করুন