পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ৫৩টি লোহার সেতু এখন এলাকাবাসীর জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতুগুলোর ক্রস অ্যাঙ্গেল মরিচা ধরে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে এবং কাঠের স্লিপারগুলো ভেঙে গেছে। এ ছাড়া সিমেন্টের ঢালাই দেওয়া স্লিপারও বহু আগেই ভেঙে গেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীরা দড়ি দিয়ে বেঁধে চলাচল করছেন। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই এসব ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছেন হাজার হাজার মানুষ।

গত দুই যুগেও এসব সেতু মেরামত না হওয়ায় স্থানীয়রা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙাচোরা সেতু দিয়ে চলাচল করছেন। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ এলাকার নারী ও শিশুদের। এ কারণে এ উপজেলার ভাঙাচোরা প্রতিটি সেতু দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে দুই যুগ আগে এলজিইডি ও জেলা পরিষদ পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৫৩টি লোহার সেতু নির্মাণ করে। কিন্তু নির্মাণের পর ওইসব সেতু সংস্কার করা হয়নি। এর ফলে অ্যাঙ্গেলে মরিচা ধরে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে এবং কাঠের প্লেটগুলোও ভেঙে উঠে গেছে। এ ছাড়া সিমেন্টের ঢালাই দেওয়া স্লিপারও বহু আগেই ভেঙে গেছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ওইসব সেতু। বিশেষ করে উপজেলার চাকামইয়ার একটি, টিয়াখালীর একটি, চম্পাপুরে দুটি, মহিপুরের তিনটি, ধুলাসারে তিনটি, ধানখালীর তিনটি, বালিয়াতলীর তিনটি, লালুয়ার তিনটি, লতাচাপলীর পাঁচটি, মিঠাগঞ্জে আটটি, নীলগঞ্জের একুশটি ইউনিয়নের তিনটি লোহার সেতু বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নারী ও শিশুরা।

নীলগঞ্জের জয়নাল আবেদীন বলেন, সেই আশির দশকের দিকে এ ইউনিয়নের লোহার সেতু তিনটি নির্মাণ করা হয়। সেই থেকে অদ্যাবধি মেরামত করা হয়নি। এগুলোর এখন বেহাল দশা এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কোনোটির স্লাব নেই, আবার কোনোটির লোহার অ্যাঙ্গেল নেই। লোহার ভিমগুলো মরিচা ধরে ভেঙে পড়েছে।

ধানখালীর গাজী সোহেল বলেন, এ ইউনিয়নে তিনটি সেতুরই ভগ্নদশা। এগুলো মেরামত না হওয়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছেন। এর ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। সেতুগুলো সংস্কার না হওয়ায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

কলাপাড়া উপজেলার এলজিইডি প্রকৌশলী আবদুল মান্নান জানান, বর্তমানে নতুন কোনো লোহার সেতু নির্মাণ করার পরিকল্পনা

সরকারের নেই। তবে যেসব সেতু চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে, সেখানে আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে এবং যেসব লোহার সেতু চলাচলের যোগ্য, সেগুলো মেরামত করে দেওয়া হবে। এরই মধ্যে একটি আরসিসি গার্ডার ব্রিজের কাজ চলছে এবং তিনটি প্রক্রিয়াধীন। পর্যায়ক্রমে সব করা হবে।

মন্তব্য করুন