জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেল তিন গ্রাম ও বিদ্যালয়

নেত্রকোনা

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

অবশেষে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেল নেত্রকোনা সদর উপজেলার সুরাইয়া আব্বাছ ডিএমসিসি উচ্চ বিদ্যালয় এবং মেয়ারগাতী, চন্দনকান্দি, ধাওয়াপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি। জেলা প্রশাসনের চাপে শুক্রবার সন্ধ্যায় ফিশারির মালিকরা কালভার্টের মুখ খুলে দেয়।

সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের মেয়ারগাতী গ্রামে কেন্দুয়া-নেত্রকোনা সড়কের পাশে সুরাইয়া আব্বাস ডিএমসিসি উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত এলাকার ২৬৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক রয়েছেন ১২ জন। গত দুই বছর ধরে বিদ্যালয়টির বেহাল দশা বিরাজ করছে। বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে এলাকাবাসীর চলাচলের জন্য সড়কের কালভার্টের মুখ বন্ধ করে গত প্রায় তিন বছর আগে এলাকার প্রভাবশালী মাহফুজুর রহমান ও সাদেক মিয়া ফিশারি স্থাপন করেন। এতে দুই বছর ধরে সামান্য বৃষ্টি হলেই মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ কারণে বিদ্যালয়ে চলাচলের রাস্তা, বিদ্যালয়ের পাঠদান কক্ষ, শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ পানিতে ডুবে যায়। পানি কমলেও টিনশেড কক্ষ স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় থাকে। এতে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। জলাবদ্ধতার কারণে ইউনিয়নের মেয়ারগাতী, চন্দনকান্দি, ধাওয়াপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ওই তিনটি গ্রামের ৫ শতাধিক একর জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর সমকালে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসনের টনক নড়ে। গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জলাবদ্ধতা নিরসনে কালভার্টের মুখে বাঁধ খুলে দেওয়া হয়। সুরাইয়া আব্বাছ ডিএমসিসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ আহমাদুল্লাহ বলেন, জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কালভার্টের মুখ খুলে দেওয়া হয়েছে। ফিশারির মালিকরা কালভার্টের মুখ খুলে দিয়ে নিজেরাই পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করেছেন।

নেত্রকোনার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় ও কয়েকটি গ্রামে জলাবদ্ধতার বিষয়টি সদর এসি (ল্যান্ড) বুলবুল আহমেদকে পাঠিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিরসন করা হয়েছে।