হত্যা মামলার ভয়ে কবর থেকে কঙ্কাল চুরি

শরীয়তপুর

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

শরীয়তপুর পৌরসভার চরপালং গ্রামের এসকান্দার ব্যাপারিকে ২০১৩ সালে বিষপান করিয়ে হত্যা করা হয়। মামলার ভয়ে গত ৩ সেপ্টেম্ব্বর সেই লাশের কঙ্কাল চুরি করা হয়েছে। এমনটাই অভিযোগ এসকান্দার ব্যাপারির মা মোসাম্মদ নূরজাহান বেগমের। নূরজাহান বেগম বলেন, শরীয়তপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবুল কাশেম খান, তার স্ত্রী মনি বেগম, সদর উপজেলা সুজনদোয়াল গ্রামের বিউটি বেগম, তার স্বামী আলমাছ সরদার জমির লোভে আমার ছেলেকে বিষপান করিয়ে হত্যা করে। পরে বসতবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে এসকান্দারের লাশ দাফন করি। কিন্তু ভয়ে হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারিনি। এখন আমাকেও হত্যার হুমকি দিচ্ছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এদিকে আবুল কাশেম খান ও তার লোকজন মামলার ভয়ে কবরস্থান থেকে আমার ছেলের কঙ্কাল চুরি করে নিয়ে গেছে। লাশের হাড়ের ভিসেরা রিপোর্ট হলে তারা ফেঁসে যাবে।

স্থানীয় ছাত্তার ব্যাপারি ও জুলেখা জানান, এসকান্দার মৃত্যুর আগে বিউটি বেগমকে বিয়ে করে। বিয়ের আড়াই বছর পর একান্দারকে ছেড়ে সুজনদোয়াল গ্রামের বাসিন্দা আলমাছ সরদারকে আবার বিয়ে করে বিউটি বেগম। বিউটি ও এসকান্দারের কোনো সন্তান ছিল না। এসকান্দার ব্যাপারির মৃত্যুর পর ২০১৮ সালে বিউটি বেগম চক্রান্ত করে তার আগের স্বামীর জমি (৬০নং পালং মৌজার ৬ শতক জমি) জাল দলিল করে প্রতিবেশী চরপালং গ্রামের আবুল কাশেম খানের কাছে বিক্রি করেন। সেই জমিতে এসকান্দারসহ তার পরিবারের পাঁচজনের লাশ দাফন করা ছিল। জমিটি নিয়ে থানা ও আদালতে মামলাও চলছে।

নূরজাহান বেগমের নাতনি মরিয়ম বিবি বলেন, আবুল কাশেম ও বিউটি আমার নানার জমি দখল করেছে। সেখানে একটি কবরস্থান ছিল। সেখানে মামা এসকান্দার ব্যাপারির লাশ কবর দেওয়া হয়েছিল। কবর খুঁড়ে লাশের কঙ্কাল চুরি করে নিয়ে গেছে আবুল কাশেম ও তার লোকজন। এখন সেই কবরস্থানের দেয়াল ভেঙে তারা বিল্ডিং করার জন্য ইটের দেয়াল করছে। সাবেক কাউন্সিলর আবুল কাশেম খান বলেন, ওই ৬ শতক জমি বিউটির কাছ থেকে আমি ক্রয় করেছি।

পালং মডেল থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, যে কবরস্থান ভাঙা হয়েছে সেই জমি কাশেমের ক্রয়কৃত। ওই সম্পত্তি নিয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। সেখানে বিল্ডিং করা হবে শুনে আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। কবরের লাশের কঙ্কাল চুরি হয়েছে এমন কোনো ঘটনা উল্লেখ করা হয়নি।