কালীগঞ্জে অযত্নে মরে যাচ্ছে শতবর্ষী গাছ

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

জামির হোসেন, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে শতবর্ষী রেইনট্রি গাছগুলো অযত্নে-অবহেলায় মরে যাচ্ছে। পৌর এলাকাসহ শহরের সংযোগকারী কালীগঞ্জ-যশোর ও কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর মহাসড়কে অনেক গাছের নিচে বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান গড়ে উঠেছে। এতে গাছের গোড়ায় পানি প্রবেশ করতে পারছে না। আর শহরের বাইরের অংশের মহাসড়কের পাশের বড় গাছগুলোর গোড়ায় মাটি না থাকায় শিকড়গুলো ভেসে উঠে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ছে। আবার পুরনো এসব গাছের মোটা ডালে পরজীবী গুল্মজাতীয় বিভিন্ন উদ্ভিদ গজিয়ে পচে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বয়সের ভারে অনেক ডালে পচন ধরেও শুকিয়ে যাচ্ছে। আর এগুলো ভেঙে নিচে পড়ার কারণে পথচারীরা হতাহতের শিকার হচ্ছেন। সর্বশেষ ৬ সেপ্টেম্বর শহরের নতুন বাজারের একটি গাছের শুকনো ডাল ভেঙে মাথায় পড়ে কালীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল রউফের স্ত্রী ফাহমিদা খাতুন (৩৫) নিহত হয়েছেন এবং গত বছর আরও এক গৃহবধূ নিহতসহ এ পর্যন্ত আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ।

সরেজমিন শনিবার কালীগঞ্জ শহরের নতুন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশের গাছগুলোর গোড়ায় বসানো হয়েছে বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান। এ কারণে গাছের গোড়াগুলো এমনভাবে ঘেরা হয়েছে যে, গোড়ায় পানি প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে ওই গাছগুলো দুর্বল হয়ে ডালপালা শুকিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জিন্নাত আলীর ইলেকট্রনিক্সের দোকানের সামনের একটি গাছ সম্পূর্ণ মরে গেছে। এ গাছের কাণ্ডের ছাল খসে পড়ছে। এ গাছটিও যখন-তখন ভেঙে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। এ ছাড়া এর আশপাশে নতুন বাজারের সংলগ্ন অনেক গাছের ডাল শুকিয়ে গেছে। মেইন বাসস্ট্যান্ডে সিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনের বড় গাছটির গোড়ায় এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে চায়ের দোকান চালাচ্ছেন। গরম চায়ের পানি আর চুলার গরমে এ গাছটি শেষ পর্যন্ত মরেই গেছে। গত বছর এ মরা গাছটির ডালপালা কেটে নেওয়া হলেও শুকনো উঁচু গাছের কাণ্ডটি এখনও ঝুঁকিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে আছে। ব্যবস্থা না নিলে যখন তখন জনবহুল এলাকার এ গাছটি পড়ে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এ ছাড়া শহরের মাইক্রোস্ট্যান্ড সংলগ্ন এসবি এন্টারপ্রাইজের সামনের গাছটির গোড়া প্লাস্টার করে দেওয়ায় এর গোড়ায় পানি প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। ফলে গাছটি মরতে শুরু করেছে। এর ফলে লোক সমাগমের এ স্থানটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শহরের মোবারকগঞ্জ চিনিকলের মিলগেট এলাকার মহাসড়কের পাশের গাছগুলোর গোড়ায় তেমন একটা মাটি নেই। এখানকার বেশ কিছু গাছেরও মোটা ডাল শুকিয়ে একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে নলডাঙ্গা ভূষণ সরকারি পাইলট হাইস্কুলের সামনের ব্রিটিশ আমলের গাছেগুলোরও একই অবস্থা। এ এলাকার পথচারীসহ সড়কের পাশের ভবনগুলোও বাড়তি ঝুঁকি বহন করছে।

কালীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাবজাল হোসেন বলেন, এ গাছ যে কারণে মারা যাচ্ছে, তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আগে দেখা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ দেখিয়ে শুকনো ডালের সঙ্গে ভালো ও মোটা ডালও কেটে প্রভাবশালীরা নিজেদের পেট ভরেছেন। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তা না হলে বর্ষায় পচা গাছের শুকনো ডাল ভেঙে পড়ে আবারও ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবর্ণা রানী সাহা বলেন, গাছের শুকনো ডাল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি ইতিমধ্যে শহরের বিভিন্ন সড়কের গাছগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেছেন। ঝুঁকিপূর্ণ গাছ ও গাছের ডাল কাটার জন্য ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদ সচিব মহোদয়কে অবহিত করেছেন। আশা করছেন খুব দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।