কেন্দুয়ায় স্কুলছাত্রের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার আটক ৫

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নে গগডা আটকান্দিয়া গ্রামের আবদুল বারেকের পুকুর থেকে রোববার দুপুরে স্কুলছাত্র জনির (১১) বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জনি গগডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত। সে ওই গ্রামের কৃষক আবদুস সোবহানের ছেলে। জনির বাবা আবদুস সোবহান জানান, মাত্র এক দিন বয়সেই তার এ ছেলেকে নিঃসন্তান বড়ভাই আবদুল কারির হাতে তুলে দেওয়া হয়।

আবদুল কারি পৈতৃক বাড়ি থেকে গিয়ে কেন্দুয়া পৌর শহরের চন্দগাতী এলাকায় বসবাস করেন। সেখানেই আবদুল কারি ও তার স্ত্রী ঝরনা আক্তার জনিকে পুত্রস্নেহে লালন-পালন করেন। জনি চন্দগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই এতদিন লেখাপড়া করেছে। কিন্তু ছয় মাস আগে জনির সৎমা ঝরনা আক্তার গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে সৌদি আরবে চলে যান। যাওয়ার আগে তার পালিত সন্তানকে জনির প্রকৃত মা-বাবার কাছে রেখে যান।

শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় জনি। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। শনিবার সারাদিন জনির নিখোঁজ সংবাদ সারা এলাকায় মাইকে প্রচার করা হয়। রোববার সকাল ১১টার দিকে বাড়ির ছেলেমেয়েরা পুকুরে গোসল করতে নেমে একটি বস্তার সন্ধান পেয়ে বাড়ির মুরুব্বিদের খবর দেয়। মুরুব্বিরা পুকুরে নেমে বস্তার মুখ খুলে দেখে একটি শিশুর লাশ। পরে তারা থানা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া, কেন্দুয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদ হাসান এবং থানার ওসি ইমারত হোসেন গাজী ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশ বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য তা নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। কেন্দুয়া থানার ওসি বলেন, প্রতিবেশী রইছ উদ্দিনের সঙ্গে আবদুস সোবহানের পারিবারিক দ্বন্দ্ব ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, কে বা কারা শিশুটিকে গলাটিপে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে রেখেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রামের সাহাব উদ্দিন, বাচ্চু মিয়া, মাজু মিয়া, বাবুল মিয়া ও রইছ উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। তিনি জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।