কুমিল্লায় এক ব্যক্তির হাত-পা বাঁধা ঝুলন্ত লাশ

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা

কুমিল্লা শহরতলির দৌলতপুর পূর্বপাড়া রেলওয়ে রোড এলাকার সৌদিয়া হাউস থেকে গতকাল মঙ্গলবার গিয়াসউদ্দিন (৫০) নামে এক গৃহকর্তার হাত-পা বাঁধা ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এটা হত্যা, না আত্মহত্যা তা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী ও স্ত্রীর বড় ভাই পুলিশ কর্মকর্তা মাহে আলম গিয়াসউদ্দিনকে হত্যা করেছে। অপরদিকে স্ত্রীর স্বজনদের ভাষায়, গিয়াসউদ্দিন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

গিয়াসউদ্দিন বুড়িচং উপজেলার কাবিলা এলাকার দুর্গাপুর (নোয়াপাড়া) গ্রামের তোফায়েল আহম্মেদের ছেলে। বেশ কয়েক বছর ধরে গিয়াস দৌলতপুর ছায়া বিতান রেললাইনের পশ্চিম পাশে 'সৌদিয়া হাউস' নামে তিনতলা বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। তিনি ওই বাড়ির নিচতলায় 'সৌদিয়া টেইলার্স' নামে দোকান খুলে টেইলারিংয়ের কাজ করতেন। তার বাড়ির পশ্চিম পাশঘেঁষে যৌথ সিঁড়িতে রয়েছে স্ত্রীর বড় ভাই পুলিশ কর্মকর্তা মাহে আলমের চারতলা 'মোল্লা হাউস' নামের বাড়ি। মাহে আলম কুমিল্লা সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের মৃত আবদুল মালেকের ছেলে। তিনি বর্তমানে লক্ষ্মীপুরের একটি ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানান স্ত্রী খোদেজা আলম।

স্থানীয়রা জানায়, গিয়াসউদ্দিন ও তার স্ত্রী সাজেদা বেগমের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। গতকাল সকালে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার জের ধরে স্ত্রী ও তার বড় ভাই পুলিশ কর্মকর্তা মাহে আলম মিলে গিয়াসকে মারধর করে হাত বেঁধে বাসার সামনে ডোবার (রেলওয়ের জায়গার পানি জমে থাকা গর্তে) মধ্যে ফেলে রাখে। দুপুর ১টার দিকে বাড়ির নিচতলায় 'সৌদিয়া টেইলার্স' থেকে হাত-পা বাঁধা গিয়াসউদ্দিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গিয়াসউদ্দিনের এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

নিহতের ভাই কবির হোসেন জানান, তার ভাইকে হত্যা করেছে তার স্ত্রী ও স্ত্রীর ভাই। কিছুদিন আগে বোনের স্বামী গিয়াসউদ্দিনের কাছ থেকে পুলিশ কর্মকর্তা মাহে আলম বাড়ির জায়গাও ক্রয় করেন। দীর্ঘদিন হয়ে গেলও সম্পত্তির কোনো টাকা দেননি। সকালে তাকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে রাখেন। তারপর তাকে হত্যা করে পাখার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। তিনি মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। তারা নাকি অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা মাহে আলমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) সালাউদ্দিন জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তবে এ ঘটনায় মৃত গৃহকর্তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে।