সুন্দরবনে স্থাপন করা হচ্ছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টেলি-নেটওয়ার্ক

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৮

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে পুরো সুন্দরবন এলাকায় স্থাপন করা হচ্ছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টেলি-নেটওয়ার্ক। বনের গহিন এলাকা নজরদারিতে আনতে ও সুন্দরবনের দুর্গম এলাকায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগাযোগের সুবিধায় এ উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ। এ ছাড়া বনের অপরাধীদের তথ্য আদান-প্রদানের খবর পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এ টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা। ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

'সুন্দরবনে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার পুনঃস্থাপন প্রকল্প'-এর আওতায় ৫৬টি টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগে ২৮টি, পশ্চিম বন বিভাগে ২৭টি এবং খুলনা বন সংরক্ষকের অফিসে একটি টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় সুন্দরবনের গভীরে ৫০টি ভিএইচএফ (উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন) টাওয়ার, ৬টি রিপোর্টার টাওয়ার, ৫০টি ভিএইচএফ সেট, ৬টি রিপোর্টার সেট, ৫৬টি সোলার ব্যাটারি ও ১০০টি ওয়াকিটকি সেট ক্রয় করা হবে, যা দিয়ে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবেন।

এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে অপরাধ দমনের জন্য টহল কার্যক্রম আরও বেশি জোরদার করা যাবে। বনকর্মীদের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি হবে, যা সুন্দরবন রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে দ্রুত তথ্য প্রাপ্তির ফলে বনজ ও জলজসম্পদ রক্ষা হবে। সুন্দরবনের

প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আসবে। ইকো-ট্যুরিজম ও সুন্দরবনের অভ্যন্তরে চিত্তবিনোদনের সুযোগ সম্প্রসারণ ঘটবে, যা রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সুন্দরবনের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। পুরো সুন্দরবন বন বিভাগের নজরদারিতে থাকবে। খুব শিগগিরই প্রকল্পটি অনুমোদন পেতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।