আমন মৌসুমে বিনা-১৬ ধান উৎপাদনে নতুন রেকর্ড

এ জাতের ধানে রোগ-বালাই কম

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৮

মনোজ সাহা, গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত নতুন জাতের স্বল্প জীবনকালের বিনা-১৬ ধান আমন মৌসুমে উৎপাদনে নতুন রেকর্ড গড়েছে।

কাশিয়ানী উপজেলার পশ্চিম মাঝিগাতি গ্রামের কৃষক হুমায়ূন খন্দকারের জমিতে প্রতি হেক্টরে ৬ দশমিক ৬৯ টন এ জাতের ধান ফলেছে বলে বুধবার বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়। গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্র জানিয়েছে, এ বছর এ কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে গোপালগঞ্জ জেলার ১০০ একর জমিতে ৩শ' প্রদর্শনী প্লটে এ ধানের আবাদ করা হয়েছে। স্বল্প মেয়াদকালের এ জাতের ধান রোপণের ১শ' দিনের মাথায় কাটা হয়েছে। মাঠ দিবসে এসব প্রদর্শনী প্লটের ধান কেটে পরিমাপ করে প্রতি হেক্টরে ৬ দশমিক ৬৯ টন ফলন পাওয়া গেছে। আমন মৌসুমে প্রচলিত জাতের তুলনায় এটি সবচেয়ে বেশি ফলন দিয়ে দেশে নতুন রেকর্ড করেছে। এর আগে এ ধান হেক্টরে ৫ দশমিক ৯৭ টন ফলেছে বলে ওই উপকেন্দ্র জানিয়েছে।

গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার পশ্চিম মাঝিগাতি গ্রামের কৃষক খন্দকার সিদ্দিক বলেন, প্রচলিত জাতের ধান চাষে লাভ নেই। বিনা-১৬ ধান জাতে কোনো রোগ-বালাই নেই। কারেন্ট পোকা আক্রমণ করে না। তাই কীটনাশক খরচ লাগে না। ধান হেলে বা ঝরে পড়ে না। অধিক ফলন দেয়। এ জাত চাষ করে আমরা লাভের মুখ দেখেছি।

গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শেফাউর রহমান বলেন, লাভজনক শস্য বিন্যাস উদ্ভাবন কর্মসূচির আওতায় গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে ও কৃষি সম্প্রসারণের সহযোগিতায় গোপালগঞ্জে বিনা-১৬ ধান আবাদ করে কৃষকরা আমন মৌসুমে সব রেকর্ড ভঙ্গ করে হেক্টরে সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৬৯ টন ধান উৎপাদন করেছেন। এটি দেশের সর্বোচ্চ ফলন। গত বছর এ ধান প্রতি হেক্টরে ৫ দশমিক ৯৭ টন ফলেছিল। স্বল্প জীবনকালের এ ধান ক্ষেত থেকে কাটার পর কৃষক একই জমিতে আরও দুটি ফসল ফলাতে পারবেন। এতে গোপালগঞ্জে ফসলের নীবিড়তা বৃদ্ধি পেয়ে কৃষকের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে।

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) ফরিদপুর অঞ্চলের সরেজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মহিউদ্দিন বলেন, গোপালগঞ্জের মাটি খুবই উর্বর। এ জেলার মাটিতে ধান উৎপাদনের সব ধরনের উপাদান বিদ্যমান। ধানে পোকার আক্রমণ ও রোগ-বালাই কম হয়। এ কারণে এখানে ধানের ফলন বরাবরই ভালো হচ্ছে। বিনা-১৬ ধান রেকর্ড পরিমাণ ফলন দিয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। এ ধান লাভজনক শস্য বিন্যাসে কৃষককে সহায়তা করছে।