পুরাতন রেলওয়ের জায়গা বেদখল

কুড়িগ্রাম

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৮

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

পুরাতন রেলওয়ের জায়গা বেদখল

কুড়িগ্রাম পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনের জায়গায় গড়ে উঠেছে বাড়িঘরসহ নানা স্থাপনা -সমকাল

কুড়িগ্রাম পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনের ২০ একরের মতো জায়গা প্রায় ১৫ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে জায়গাগুলো ক্রমেই বেদখল হয়ে যাচ্ছে। দখলদাররা বাধা-বিপত্তি ছাড়াই এগুলো ভোগদখল করছে। শুধু তাই নয়, দখল করা জায়গায় নিজেদের ইচ্ছেমতো বাড়িঘরসহ নানা ধরনের স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে। এখানে কারা কীভাবে জমিগুলো দখল ও ভোগ করছে, কতজন লিজ নিয়েছে এবং কতটুকু জমি লিজ নিয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি দপ্তরে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।

এদিকে কুড়িগ্রাম পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনের পরিত্যক্ত জমিতে ট্রাক-নৈশকোচ স্ট্যান্ড ও বাজার নির্মাণের জন্য কুড়িগ্রাম পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠালেও প্রায় ১৪ বছর ধরে চিঠি চালাচালি চলছে।

রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৮৬১ সালের দিকে রেলপথ চালু হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে তৎকালীন কুড়িগ্রাম মহকুমা শহরে রেলপথ চালু হয়। এ জন্য শহরের শেষ প্রান্তে স্থাপিত হয় কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন। এটি ছিল এই রেলপথের শেষ স্টেশন। এর পর ১৯৬৮ সালের দিকে শহরে ঢোকার পথে কালে নামক এলাকায় কুড়িগ্রাম নতুন রেলওয়ে স্টেশন স্থাপন করে চিলমারী পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ করা হয়। এর ফলে কুড়িগ্রাম নতুন রেলওয়ে স্টেশন থেকে কুড়িগ্রাম পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত তিন কিলোমিটার পথে ট্রেন চলাচলে দু'বার ইঞ্জিনের অবস্থান বদল করতে হতো। এতে বিড়ম্বনা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সময়ের অপচয় হতো। এ জন্য ২০০৩ সালের দিকে এই রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হলে পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।

রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় ভূসম্পত্তি দপ্তরের অধীন কুড়িগ্রাম ২ নম্বর কাচারি অফিসের কানুনগো গোলাম নবী পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনের মোট জমির পরিমাণ কত, কী পরিমাণ জমি অবৈধ দখলদারদের কবলে রয়েছে- সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে পারেননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, এখানে কুড়িগ্রাম মৌজার অধীন ১৭ দশমিক ৫২ একর জমি ৩০ জনকে লিজ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে কুড়িগ্রাম পৌরসভার প্যানেল মেয়র মাসুদুর রহমান জানান, এই জেলা শহরের উন্নয়নের স্বার্থে এবং শহরের যানজট কমাতে পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনের পরিত্যক্ত জায়গায় ট্রাক-নৈশকোচ স্ট্যান্ড এবং বাজার নির্মাণের জন্য ১২ দশমিক ৪২ একর জায়গা এবং অবশিষ্ট জমিসহ পরিত্যক্ত রেলপথের জায়গায় সড়ক নির্মাণের জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তাবনা সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ২০০৪ সালের ১১ জুলাই পাঠানো হয়। এর পর থেকে চিঠি চালাচালি চলছে।

লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের ডেপুটি ট্রাফিক সুপার শওকত জামিল মহসীন জানান, তিনি এখানে ছয় মাস আগে বদলি হয়ে এসেছেন। ফলে বিষয়টি অবগত নন। তাছাড়া এক মাস ধরে বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। এই জন্য এ সম্পর্কিত তথ্য তার হাতের কাছে নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে এ সম্পর্কে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।