হাওরে অবাধে পোনা নিধন

কিশোরগঞ্জ

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০১৯      

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ

আইনের তোয়াক্কা না করে কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলার অধিকাংশ নদনদী ও হাওরে মা ও পোনা মাছ নিধন চলছে। প্রভাবশালী কতিপয় স্বার্থান্বেষী ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সহযোগিতায় এক শ্রেণির মৎস্যজীবী নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও কোনা জাল দিয়ে নদী-নালা, খাল-বিল ও হাওর থেকে অবাধে মাছ ধরছে। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিন ইটনা, অষ্টগ্রাম, মিঠামইন, নিকলী, তাড়াইল ও করিমগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরে মৎস্য শিকারিরা দল বেঁধে নৌকা নিয়ে মৎস্য আহরণ করছে। নির্বিচারে মাছ ধরার ফলে হাওরে মৎস্য সম্পদ বিপন্ন হচ্ছে।

হাওরের মাছ অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় এর কদর এবং চাহিদা বেশি। শীতের সময় পানি কমে যাওয়ায় হাওরের কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় বিচরণ করে পোনা ও মা মাছ। সে জায়গাগুলোতে কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরায় মাছের স্বাভাবিক উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। সরকার যেখানে মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে, সেখানে এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মানুষের কারণে ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের এই উদ্যোগ।

ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মসিউর রহমান জানান, গত দুই মাসে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে বেশ কয়েক স্থানে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় কয়েক লাখ টাকার কারেন্ট জাল ও কোনা জাল আটক করে পোড়ানো হয়েছে। কিন্তু ধূর্ত শিকারির দলের সঙ্গে পেরে উঠা যায় না। এ জন্য জনসচেতনতা জরুরি। জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে হাওরের বিশাল মৎস্য সম্পদকে রক্ষা করতে।

মিঠামইন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুস সাহীদ ভূঁইয়া বলেন, 'হাওরের মৎস্য সম্পদ রক্ষা করতে হলে প্রভাবশালী যারা জড়িত এবং যারা সাধারণ জেলেদের পেছনে শক্তি জোগায়, তাদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তবেই তারা পিছু হটবে। নতুবা ধ্বংস হয়ে যাবে মৎস্য সম্পদ।'