বেইলি ব্রিজটি এখন মরণফাঁদ

নোয়াখালী লক্ষ্মীপুর

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

আনোয়ারুল হায়দার, নোয়াখালী

বেইলি ব্রিজটি এখন মরণফাঁদ

লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী সংযোগ বেইলি ব্রিজের ভেঙে যাওয়া পাটাতন- সমকাল

নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার সীমান্তবর্তী ও দুই জেলার মধ্যে সংযোগকারী বেইলি ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় এটি স্থানীয়দের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতুটি যান ও মানুষ চলাচলের অনুপযোগী থাকায় ৬০ কিলোমিটার ঘুরে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ অপচয় করে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলা সদরে পৌঁছতে গিয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনসাধারণকে। এর ফলে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠছে না। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জনগুরুত্বপূর্ণ এই বেইলি ব্রিজটি ব্যবহারের অনুপযোগী রয়েছে। নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটির ওপর দিয়ে চলাচল করছে। জরুরি ভিত্তিতে সেতুটি মেরামতের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিন ঘুরে স্থানীয় সুবর্ণচর উপজেলাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার বুলুয়া নদীর ওপর ২০০২ সালে তিন জোড়া পিলারের ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটি নির্মিত হয়। এর দৈর্ঘ্য ২০০ মিটার। ব্রিজটির পশ্চিম পাশে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা এবং পূর্ব পাড়ে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা। এ সেতুটি দুই জেলার মানুষের মধ্যে মিলন ঘটিয়েছে। ব্রিজটির ওপর দিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর ও রামগতি উপজেলা এবং নোয়াখালী সদর, সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলার হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। সেতুটির পূর্ব ও পশ্চিম পাশে পাকা সড়ক রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর তীব্র স্রোতের কারণে ব্রিজটির উভয় পাশে মাটি ধসে নদীতে পড়ে গিয়ে সেতুর সংযোগ সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সেতুটির ওপরের স্টিল পাটাতনে মরিচা ধরে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা হেঁটে চলাও মুশকিল।

নোয়াখালীর বুলুয়া নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটির উভয় পাশে রয়েছে অর্ধশতাধিক প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মহাবিদ্যালয় এবং মাদ্রাসা। স্থানীয় সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা আবদুল মান্নান, জুলহাস, খবির উদ্দিন, হালিম মিয়া, শিক্ষার্থী হুমায়রা, জামাল ও কবির বলেন, ব্রিজটি চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় স্থানীয় কৃষি ফসল বাজারজাত করতে চরম বিঘ্ন ঘটছে। শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের হেঁটে নদী পর হতে হয়। বর্ষা মৌসুমে নদী যখন কানায় কানায় পরিপূর্ণ থাকে তখন শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ব্রিজটির ওপর দিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে বাধ্য হচ্ছে।

চরজুবিলি ইউপি চেয়ারম্যান হানিফ চৌধুরী ব্রিজটির দুরবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, নোয়াখালী-৪ আসনের (সদর-সুবর্ণচর উপজেলা) সংসদ সদস্য মো. একরামুল করিম চৌধুরী এটি মেরামতের জন্য একাধিকবার পদক্ষেপ নিলেও রামগতির সংসদ সদস্য ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উদাসীনতার কারণে তা হয়নি। এর ফলে হাজার হাজার মানুষ চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। ব্রিজটি সংস্কার করা হলে দুই জেলার হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হতো। সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু ওয়াদুদ বলেন, সেতুটির বর্তমান অবস্থা খুবই নাজুক। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি সংস্কারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এটির মূলত কিছু অংশ সুবর্ণচরের চরজুবিলি ইউনিয়নের এবং সিংহভাগ অংশ লক্ষ্মীপুর রামগতি উপজেলার সীমানায় পড়েছে। তাই আলোচনা করে এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।