ভালো নেই ভূমিহীনরা

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ভালো নেই ভূমিহীনরা

আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা সমকাল

জমি নেই, বসত গড়ার জায়গা নেই। নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা নেই। দিন-রাত কাটাতে হতো মানুষের বাড়ির বারান্দায় অথবা খোলা আকাশের নিচে। আবার কোনো কোনো পরিবার পাহাড়-জঙ্গলে বসতি গেড়েও জীবন চালাত। তাদের দুঃখের কথা শুনে বর্তমান সরকারসহ বিভিন্ন সরকারের আমলে ওইসব ভূমিহীন পরিবারের জন্য গড়ে তোলা হয় নানা নামে আশ্রয়ণ প্রকল্প। সরকারের দেওয়া ৭টি আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করছে ৩২০টি ভূমিহীন পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে বসত গড়ার ঠিকানা পেলেও সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছে তারা। বিশুদ্ধ পানি, গোসল, মলমূত্র ত্যাগ, শিক্ষাসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন ভূমিহীন পরিবারের সদস্যরা। তাদের সমস্যা শুনতে মঙ্গলবার উপজেলার সব বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে হাজির হয়েছিলেন মুক্তাগাছার ইউএনও সুবর্ণা সরকার। তিনি তাদের কথা শুনে সমস্যা সমাধানেরও আশ্বাস দেন সরকারের আশ্রয়ে থাকা ভূমিহীনদের।

দেশ স্বাধীনের পর ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা ছিল তুলনামূলকভাবে গরিব এলাকা। এ উপজেলায় অনেক পরিবারের ছিল না নিজস্ব জমি। তারা অন্যের বাড়ির বারান্দায়, রান্নাঘরে আবার কোনো কোনো পরিবার খোলা আকাশের নিচে বসবাস করত। কেউ কেউ পাহাড়-জঙ্গলে বসবাস করত। তাদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে তৎকালীন সরকার ১৯৮৮ সালে সর্বপ্রথম মানকোন ইউনিয়নে ৫ একর জমির ওপর পল্লবী গুচ্ছগ্রাম নামে ভূমিহীনদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে। ওই গুচ্ছগ্রামে ২১টি পরিবারের বসবাসের জন্য টিনের ঘর তুলে দেওয়া হয়। এর পর ১৯৯২ সালে ঘোগা ইউনিয়নের শশরায় সুরভী আদর্শ গ্রাম নামে দেড় একর জমির ওপর ৩৩টি পরিবারকে বসবাসের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া হয়। ১৯৯৩ সালে রসুলপুরে বসুন্ধরা আদর্শ গ্রাম নামে আরও একটি প্রকল্পে ৪৬টি ভূমিহীন পরিবারকে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৯৭ সালে দুল্লা ইউনিয়নের চণ্ডিমণ্ডপ এলাকায় ৫ একর জমিতে ৭০টি পরিবার, একই এলাকায় প্রকল্প-২ নামে ৫০টি ভূমিহীন পরিবার আশ্রয় নেয়। এ ছাড়া ১৯৯৮ সালে বানিয়াবাড়ি আদর্শ গ্রামে ৪০টি পরিবার ও ২০০৩ সালে আবাসন প্রকল্পের ঠিকানা নামে ৬০টি পরিবারকে সরকার টিনের নতুন ঘর তুলে বসবাসের ব্যবস্থা করে দেয়। দুটি রুম, একটি পায়খানা ও একটি রান্নাঘর দেওয়া হয় প্রতিটি পরিবারের জন্য। প্রতিটি আবাসন প্রকল্পের পরিবারের জন্য একটি করে পুকুর খনন করে দেওয়া হয়। প্রকল্পগুলোর কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন আগে হওয়ায় এখন ক্রমেই এসব ঘরবাড়ি পুরনো হয়ে অধিকাংশের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার তেমন একটা সুবিধা নেই আশ্রয়ণ প্রকল্পে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা মরদেহ দাফনের কোনো ব্যবস্থা নেই তাদের। এসব পরিবারের কেউ মারা গেলে তাদের লাশ অনেক দূরে নিয়ে দাফন করতে হয়। কেউ মারা গেলে দাফন করা নিয়ে বিপদে পড়তে হয়।

ইউএনও সুবর্ণা সরকার বলেন, তাদের সমস্যার কথা শুনে মঙ্গলবার উপজেলার সব বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন করা হয়। এ সময় তারা তাদের সমস্যা কথা আমাদের কাছে তুলে ধরেন। পরে তাদের সব সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানেরও আশ্বাস দেওয়া হয়।