বরিশালে কিশোরী ধর্ষণের দায়ে ভণ্ড ফকিরের যাবজ্জীবন

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

বরিশাল ব্যুরো

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় এক কিশোরীকে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কথিত ভণ্ড ফকির ইউনুছ হাওলাদারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে, অনাদায়ে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ। গতকাল বৃহস্পতিবার আসামির অনুপস্থিতিতে বিচারক এ রায় দেন। দণ্ডিত ভণ্ড ফকির ইউনুছ হাওলাদার বাকেরগঞ্জ উপজেলার বারঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

সংশ্নিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী আজিবর রহমান জানান, বাকেরগঞ্জ উপজেলার ওই কিশোরীর সঙ্গে ইউনুছ হাওলাদারের স্ত্রী আলেয়া বেগমের পূর্বপরিচয় ছিল। কিশোরীর স্বাস্থ্য ভালো না থাকায় আলেয়া তার স্বামী ইউনুছ ফকিরের চিকিৎসা নিতে তাকে প্রলুব্ধ করে। আলেয়ার কথামতো ওই কিশোরী ইউনুছের কাছে যায়। ইউনুস কিশোরীকে জানায় তাকে বান মারা হয়েছে। ১ মাস চিকিৎসা নিলে সে ভালো হয়ে যাবে। পরে ইউনুছ রাতে ওই কিশোরীর বাসায় গিয়ে ওষুধ দিয়ে আসত।

২০১০ সালের ৩০ জুলাই রাতে ইউনুছ কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে তাকে দরজা খুলতে বলে। কিশোরী দরজা খুললে ইউনুছ তাকে ওষুধ দেয়। ওষুধ খেয়ে কিশোরী অজ্ঞানের মতো হয়ে পড়লে ইউনুছ তাকে ধর্ষণ করে। এরপর ওষুধ দেওয়ার অজুহাতে সে প্রায়ই কিশোরীকে ধর্ষণ করত। এতে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ইউনুছ ও তার স্ত্রী আলেয়া তার গর্ভপাত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। কিশোরী বিষয়টি অভিভাবকদের জানালে তারা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন  এ ঘটনায় ওই কিশোরী ফকির ইউনুছ হাওলাদার ও তার স্ত্রী আলেয়া বেগমকে অভিযুক্ত করে ট্রাইব্যুনালে মামলা করে।