ছাগলনাইয়ায় যৌতুকের জন্য অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতন

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

ছাগলনাইয়া (ফেনী) প্রতিনিধি

ছাগলনাইয়ায় যৌতুকের জন্য অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতিত নারী ভয়ে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য হাসপাতালে আসতে পারছেন না। মামলা করারও সাহস পাচ্ছেন না। ঘটনাটি ঘটেছে পৌরসভার ৮ নম্বর মটুয়া ওয়ার্ডের আব্দুল খালেক আমিনের বাড়িতে। নির্যাতিত নারী পৌরসভার ৭ নম্বর দক্ষিণ যশপুর ওয়ার্ডের রাজা মিয়া হাবিলদার বাড়ির মৃত ছেরাজুল হকের মেয়ে।

ঘটনার বিবরণে ওই নারী জানান, স্বামী ইমাম হোসেন (৪০) প্রতিনিয়ত মাদক সেবন করে বাড়িতে ফিরে স্ত্রী আসমা আক্তার তানিয়াকে মারধর করে। প্রতিদিন সকালে ইমাম ঘর থেকে বের হওয়ার সময় মদ খাওয়ার টাকা দাবি করে স্ত্রীর কাছে। স্ত্রী তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চলে তার ওপর নির্যাতন। মঙ্গলবার ইমাম ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তানিয়াকে বলে- 'তোর ভাই সৌদি আরব থাকে, তাকে বল ১ লাখ টাকা পাঠাতে। না হলে জানিস তো কী হবে?' এই বলে ইমাম ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। বিকেলে বাড়িতে এসে তানিয়ার কাছে জানতে চায় বিষয়টি তার ভাইকে জানিয়েছে কি-না। তানিয়া না-সূচক মন্তব্য করলে ইমাম ছেলের ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে তানিয়াকে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ জখম করে বাঁ হাত ভেঙে দেয়। তানিয়ার চিৎকার শুনে এলাকাবাসী তার বাবার বাড়িতে ফোন দিলে তানিয়ার দুই বোন এসে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বাবার বাড়িতে নিয়ে যায়। এ অবস্থায় ইমাম তানিয়ার মা সালেহা খাতুনকে ফোন করে জানায়, এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে বা থানায় অভিযোগ দিলে পরিণতি ভালো হবে না। সালেহা জানান, তার অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে ইমামের হুমকিতে তিনি বিপাকে আছেন। ঠিকমতো চিকিৎসাও করাতে পারছেন না। থানায় অভিযোগও দিতে পারছেন না।

অভিযুক্ত ইমাম হোসেন জানায়, সে তানিয়াকে কোনো নির্যাতন করেনি, তানিয়ার পরিবার তাকে মেরে জখম করেছে। সে কোনো যৌতুক চায়নি। তবে বনিবনা না হলে মাঝে মধ্যে দু-একটি চড়-থাপ্পড় দিত বলে তা স্বীকার করে।

ওসি এমএম মুর্শেদ পিপিএম বলেন, নির্যাতিতার পরিবার আইনি সহায়তার জন্য থানায় এলে যৌতুকলোভী ইমামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।